লেখিকাঃ আশা রোজমেরি
রানী এথিনা মহারাজের মাথায় হাত রাখলেন।বললেন,
--আপনার কিচ্ছু হবেনা।আমি চলে এসেছি।আপনাকে সেবা করে সারিয়ে তুলবো।
মহারাজ বললেন,
--আমি মানসিক ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তোমার অভাবে।তোমাকে দেখে এখন আমি মন থেকে সুস্থ।মন আর শরীর একে অন্যের পরিপূরক।নিশ্চয়ই, সুস্থ হবো।আমাদের মেয়ে আমাদের দুজনের ভালবাসা থেকেই বঞ্চিত হয়েছে।অল্প বয়সে রাজ্যে শাসন করেছে।সকল বিপদে ঝাপিয়ে পরেছে।এবার এলাইসাকে একটা মুক্ত জীবন উপহার দিতে হবে।ঘুরে-বেরাবে, আনন্দ করবে।
রানীও সায় দিলেন তাতে।রানীর সংস্পর্শে মহারাজ যেনো কিছুটা শক্তি পেলেন।তিনি বসার চেস্টা করলেন।এথিনা তাকে ধরে বসালেন।রাত বেড়ে চললো।সবাই এলাইসাদের ফিরার অপেক্ষায় অধীর হয়ে গেলো।হেনরি, প্রায় অসুস্থ হয়ে গেলেন একমাত্র ছেলের জন্য।মেরিটা তাকে সেবাযত্ন শুরু করলেন।
------------------★-----------------
জেসি মায়াপরীকে গভীর জঙ্গলে আক্রমণ করেছে।খারাপ কিছু ঘটে যাবার আগেই রোজালিয়া পৌঁছে গেলো।ক্যাথান এর পিঠে সওয়ার হয়েছে এলাইসা আর এডমাইন।এলিন তার ঘোড়ার পিঠে।তারা পৌঁছে দেখে জেসি পরাজিত প্রায়।তারা তিনজন যখন তীর ছুঁড়লো।তখন সে মাটিতে লুটিয়ে পরলো।এবং এলাইসা তার তলো*য়ার দ্বারা মাথা নামিয়ে দিলো।
কিছুক্ষন পর তারা ফিরে এলো মায়াপরীকে সাথে নিয়ে।জেসিকে তারা আন্দ্রেয়ার মতো একেবারে শেষ করে দিয়েছে।মায়াবন থেকে ডা*ইনীদের অস্তিত্ব শেষ হলো।তারা আসার পর অনুষ্ঠান শুরু হলো।দুটি কেদারায় পাশাপাশি এলাইসা আর এডমাইন বসলো।হেনরিকেও রানী এথিনার পাশে বসানো হলো।মেরিটা একটি সোনার ছোট বাক্স নিয়ে এলো।বাক্স উন্মুক্ত করতেই হীরার দুটি আংটি জ্বলজ্বল করে উঠলো।কিন্তু এলাইসা জানালো, "সে ঘাসফুলের আংটি পরতে চায় আগে"।সেই আংটি এডমাইন এর পকেটেই ছিলো।রাজকন্যার ইচ্ছেনুযায়ী আগে ঘাসফুলের আংটি পরানো হয়।তারপর সবার আশীর্বাদে হীরার জোড়া আংটি বিনিময় হলো।
মহারাজ ঘোষনা দিলেন, "রানীর ফিরে আসায় আমি চিন্তামুক্ত হয়েছি।ভবিষ্যতে আমার অবস্থা যাই হোক, এলাইসার জন্য রানী এথিনা থাকবেন।এজন্য আজকের অনুষ্ঠান আংটি বিনিময়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।দুই বছর পর যখন এলাইসার বয়স আঠারোতে পুর্ণ হবে।তখন এ রাজ্যে বিয়ের সানাই বাজবে।
------------------★---------------
দুই বছর পর
এডমাইন নিজেকে এলাইসার যোগ্য করে তুলেছে।মায়াবন থেকে ফুল নিয়ে নিজের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কোম্পানি করেছে।যা এখন অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে গেছে।এছাড়াও তার যুদ্ধবিদ্যা শিখানোর স্কুল রয়েছে।এলাইসা এবং মা এর জন্য প্রসাদ গড়েছে মায়াবন এর এক বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে।পরী রানী রোজালিয়া এই ব্যবস্থা করেছেন।প্রসাদের দুই পাশে ঠাঁই পেয়েছে নানা রকম ফুল গাছ।প্রাসাদের এক পাশে ছোট একটি সরোবর করেছে।সরোবর এর ঘাট শান বাঁধানো।সরোবর এর স্বচ্ছ পানিতে সাদা সংমিথুন ভেসে বেড়ায়।দেখলেই মন ভরে যায় অজানা ভালো লাগায়।সিংহাসনে বসেন হেনরি।তার আদেশে রাজ্য দেখাশোনা হয়।এডমাইন নিজের মা এর আনন্দিত মুখ দেখে চাঁদের হাসি উপভোগ করে।
মহারাজ এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।রাজ্য এখন তার শাসনে চলে।এলাইসা প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়ায় রাজ্যের আশ-পাশ।ক্যাথান নিয়ে পাড়ি জমায় স্বপ্নের সব জায়গায়।
রানী এথিনা, মেরিটাকে কোথাও যেতে দেননি।বরং তার জন্য সুযোগ্য পাত্রের সন্ধান চলছে।
ডিওডি আর এঞ্জি এখন শুধু রাজ্য রন্ধনশালায় বহাল থাকেনা।রাজা এডিডাস, রাজ্যের এক প্রান্তের তাদের জন্য আবার রেস্তোরাঁ করে দিয়েছেন।নাম ডাক হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।খুব সুস্বাদু আর স্বল্প মূল্যে খাবার পাওয়া যায় বলে তাদের রেস্তোরাঁ আরো বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও অনুষ্ঠানের জন্য তাদের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার নেওয়া হয়।
দুই বছর আগের ঘোষণা অনুযায়ী প্রাসাদ আবার আলোক সজ্জায় সেজে উঠলো।সানাই বেজে উঠলো।বিয়ের জন্য প্রাসাদ সাজানো হলো এডমাইন এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি থেকে।খাবার এর আয়োজন করা হয়ে ডিওডি আর এঞ্জির রেস্তোরাঁ থেকে।পরীরা এসে নাচের আসর করেছে।যাদু কাঠির ছোঁয়ায় তারারা নিচে নেমে এসেছে।পুরো রাজ্যটাকে আকাশ মনে হচ্ছে।এমন বিয়ের আসর আর কোথাও কেউ কখনো দেখিনি।এসব আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে এলাইসা আর এডমাইন এর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হলো।
হেনরি পায়েশ করে সোনার বাটিতে রুপোর চামচ নিয়ে অপেক্ষায় এলাইসাকে মিষ্টি মুখ করে বরন করার জন্য।
0 Comments