লেখিকাঃ আশা রোজমেরি
বনের মায়া পরী মেনানকে দেখে খুব খুশি হলো।কতো দিন পর তার একাকিত্বে কেউ একজন সঙ্গ দিতে এসেছে।কিন্তু আবার দুঃখও পেলো।এই লোকটাকে তার মতোই সাজা পেতে হবে।নিজের পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেনা।মায়া পরী মেনানকে উদ্দেশ্য করে ডাকলো,
--শুনছো কাঠুরে? নাম কি তোমার? আমি তোমাকে চিনি।তুমি সবসময় এ বন থেকে ফলমূল নিয়ে যেতে।আমি তোমার মতো আরো কিছু গরীব কাঠুরের জন্যই পুরো বন ফলমূলাদি দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাখতাম।কেউরা ফুল নিয়ে বিক্রি করতো।আমি ১২মাস সব রকমের ফুল ফুটিয়ে রাখতাম।
"মেনান এবার যেনো একটু প্রান ফিরে পেলো।শ*ঙ্কিত মন একটু শান্ত হলো।বাঁচার জন্য একটু হলেও ভরসা পেলো।" মুখে একটু হাসি টেনে বললো,
--আমি মেনান।আমি আমার ছোট্ট মেয়ে মোয়ানার জন্য ফল নিয়ে যেতাম।ফল ওর খুব প্রিয়।কিন্তু ডা*ইনি আমাকে আজকে বন্দী করে ফেলেছে।আমি ফিরতে না পারলে আমার স্ত্রী এবং কন্যা মোয়ানা খুব চিন্তা করবে।কিন্তু আপনি এখানে বন্দি হলেন কি করে?
--ডা*ইনিকে আমি অভিশা*প দিয়ে জঙ্গলের গুহায় বন্দি করে রেখেছিলাম।পাহারায় ছিলো আমার যাদুকরী বাঘ আর সিংহ।কিন্তু হঠাৎ ছাড়া পেতেই তোমার ছন্দবেশে আমার কাছে এসেছে।তারপর আমার যাদু কাঠি দেখতে চাওয়ার নাম করে, ওটা ছিনিয়ে নিয়েছে।আমি যখন বুঝতে পারলাম ওটা ডা*ইনি আন্দ্রেয়া।ততোক্ষণে আমাকে বন্দি করেছে এই অদৃশ্য কুঠুরিতে রেখে দিয়েছে।
--তাহলে এখন উপায় কি মায়া পরী?
--আমি এতোদিন একা ছিলাম।তাই কিছু করতে পারিনি।আমি একজনের অপেক্ষায় ছিলাম।এখন আমি যা বলবো তুমি সেসব করবে।তাহলে আমরা ছাড়া পেতে পারবো।তোমাকে আমি আমার যাদু দ্বারা এই অদৃশ্য কুঠুরি থেকে বের করতে পারবো।কিন্তু এই বন এখন আন্দ্রেয়ার দখলে।আমি যতক্ষন না ছাড়া পেয়ে বন যাদু মুক্ত করবো,ততোক্ষন এই বন থেকে কেউ বেরোতে পারবেনা।যে আসবে সেই বন্দি হয়ে যাবে।আমি তোমাকে রুপ বদলের ক্ষমতা দিচ্ছি।তুমি সেভাবেই কাজ করবে।
--আপনি যেভাবে বলবেন বনের মায়া পরী, আমি সেভাবেই সব করবো।
"এর মাঝেই বলে আরও যারা ফলমূল এবং ফুল নিতে এসেছে, আন্দ্রেয়া সবাইকে পাথর বানিয়ে রেখেছে।"
মায়াপরী মেনানকে যাদু দ্বারা বৃত্তাকার থেকে মুক্ত করলো।তারপর মেনানকে রুপ বদলের ক্ষমতা দিলো।বললো, এবার যাও মেনান।
----------------★----------------
গোধূলি পরে গিয়ে লাল আভা মিলিয়ে হালকা আঁধারের আলপনা এঁকেছে ধরিত্রী।এমন লগ্নে এট্রেসিকে দেখে এলাইসার খুব ভালো লাগলো।পাহাড়ি সাজে একজন মহিলা এতোটা রূপবতী কি করে হতে পারে।এলাইসা বললো,
--এট্রেসি, আপনি আদিবাসী হয়ে যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী কিভাবে হলেন? আমি কি জানতে পারি
--আমি ঠিক জানিনা রাজকন্যা।আমার মনে নেই কার কাছে শিখেছি বা কোথায় নাকি নিজে নিজেই পারি।হয়তো এটা আমার জন্মসূত্রে পাওয়া একটা গুন।
"এলাইসার তার কথা পছন্দ হলো"।বললো,
--আমি মাঝে মাঝে আপনার কাছে আসবো।আর আপনাকেও একদিন আমাদের রাজ্যে নিয়ে যাবো।
--সে দেখা যাবে।তবে তুমি এসো।এডমাইন তোমাকে নিয়ে আসতে এবং দিয়ে আসতে সাহায্য করবে।
"এলাইসা মাথা নাড়িয়ে বললো, ঠিক আছে।এখন আসি।মেনানকে উদ্ধার করতে হবে।প্রজাদের জন্য কিছু করতে না পারলে আমি সিংহাসনে বসার যোগ্য হবোনা।"
এট্রেসি বলল, আমিও যেতে চাই তোমাদের সাহায্য করতে।আমি সাথে থাকলে তোমাদের বিপদাপদ কম হবে।
এতোক্ষণে এলিন কথা বললো।
--হ্যা, চলুন এট্রেসি।আপনি না বললেও, আমি ভেবেছিলাম আপনাকে আমাদের সাহায্য করার কথা বলবো।
এট্রেসি খুশি মনে বললেন,
--চলো তাহলে রওনা করি আমরা।
এডমাইন নিজের মা'কে বলে এলো।তারপর তারা সেই ঘন জঙ্গলে যাত্রা করলো।কারন এই জঙ্গলের পর আর কোনো জঙ্গল নেই।এটাই জঙ্গলের শেষ প্রান্ত।
------------------★---------------------
রাত বাড়তে লাগলো।এলাইসা এখনো ফিরেনি।রাজার কানে এ খবর পৌঁছানো মাত্রই তিনি চিন্তায় বিচলিত হয়ে পরলেন।তার শরীর খারাপ করতে শুরু করলো।নার্স মেরিটা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
--আমাদের এলাইসা কি সাধারন কোনো মেয়ে নাকি।সে রাজকন্যা।যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী।রাজ্য শাসন করতে হলে তাকে আগে প্রজাদের সুরক্ষা দিতে হবে।এজন্য অনেক রাত-বিরেতে তাকে বাইরে থাকতে হবে মহারাজ।আপনি উত্তেজিত হবেন না।
রাজা বুঝলেন মেরিটার কথা।কিন্তু নিজের মনকে সায় দিতে পারছেন না।তিনি মেরিটাকে জিঙ্গেস করলেন,
"যেহেতু দিন ফুরিয়ে এসেছে।রাজ্যের চারদিক এখন কাজ শেষ করে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।সবাই এখন বিশ্রাম করবে।এনথাকে বলো, এলাইসার সন্ধানে যেতে।"
--আজ্ঞে মহারাজ
মেরিটা,রুম থেকে বেরিয়ে এনথার কাছে গেলেন।তারপর এলাইসার সুরক্ষার কথা বলে, এনথাকে পাঠিয়ে দিলেন উত্তরের জঙ্গলে।
0 Comments