লেখিকাঃ সাদিয়া আকতার
আলভি কাচে ঘেরা একটি অফিস কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে।
নেম প্লেটে লেখা "আরুশা হক"
ইতস্তত হাতে শিশা'র দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে আলভি, বুকের ভেতর টা অসহ্য যন্ত্রণায় মোচড় দিচ্ছে। অস্থির চোখ দু'টো সম্মুখে তাকাতে দেখতে পায় ইজি চেয়ারে কেউ একজন তার বিপরীত দিকে মুখ করে বসে আছে। অস্ফুটস্বরে আলভি ডাকে
" আম্মি!!...."
এবার সেই মানবী মুখোমুখি চেয়ার ঘুরিয়ে স্মীত হেসে বলেন " আভি!!!... আসতে এত দেরি করলে বাবা...."
রুদ্ধকন্ঠে আলভি বলে
" ইচ্ছে করে না যে...."
: তবে তুমি তো আম্মি'র কাছে যে কথা দিয়েছিলে....
: ত... তুমি ফিরে আসো না আম্মি!!!.....
শরীরে হালকা ঝাকুনি অনুভব হতে হতচকিত হয়ে পাশে তাকায় আলভি, দেখে সুপ্ত ওর কাঁধে হাত রেখে দাড়িয়ে, ধরা গলায় বলে " আন্টি কোনদিনই আর ফিরবে না রে আলভি!!!...... "
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আলভি বলে " আহ!!... জানি!... কিন্তু আম্মি কে আমি স্পষ্ট দেখছি এই চেয়ারে!.... "
: ওটা তোর ভ্রম ছিলো ভাই!!!....
আলভি দু'হাতে মুখে ঢেকে বসে পরে সেই চেয়ার টায়।
কাপা কন্ঠে বলে " সুপ্ত!... ভাই আমি একটু একা থাকবো.... "
: ঠিক আছে.... আমি কনফারেন্স রুম দেখে আসি.... দরকার হলে কল দিস....
: হুম্মম.....
আলভি নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে তবুও তার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে একদিনের কথা
-----------------------------------
আলভি আনিতা ওর বাবা মায়ের সাথে কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফিরছিলো। মি. আফতাব হক ড্রাইভ করছিলেন পাশের সিটে ছিলেন আরুশা হক। কোন একটা বিষয় নিয়ে ওনাদের মধ্যে প্রচুর বাকবিতণ্ডা হচ্ছিলো। ছোট্ট আলভি'র বয়স তখন সবে মাত্র পাচ। সে বুঝতে পারছিলো না বাবা কেন মা'কে এভাবে বকা দিচ্ছে। আচমকা মি. আফতাব তার মিসেস কে একটা থাপ্পড় দেন। আলভি হতভম্ব চোখে একবার ওর বাবা তো আরেকবার ওর মা কে দেখছিলো। খানিকবাদে আরুশা হক গম্ভীর হয়ে গাড়ী থামাতে বললে মি. আফতাবও গাড়ি থামান, আরুশা হক গাড়ি থেকে নেমে অনেক্ক্ষণ চেয়ে থাকেন মি. আফতাবের দিকে এরপর ভারাক্রান্ত মন নিয়ে পিছনের সিটে বাচ্চাদের কাছে এসে বসেন। অনিতা কে কোলে নেন আর আলভি'কে এক হাতে জড়িয়ে ধরেন। ছোট্ট আলভি তখন এসব দেখে এমনিতেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছে এজন্য মায়ের ছোয়া পেয়ে চোখ বন্ধ করে থাকতে থাকতে কখন যেন ঘুমিয়ে যায়।
হঠাৎ এক বিকট শব্দে আলভি'র ঘুম ভাঙতেই প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত পায়। ব্যাথ্যায় কুকিয়ে ওঠে ক্ষীণ কন্ঠে ডাকে "আম্মি!!!...."
চারিদিকে অন্ধকার......
হসপিটালে যখন আলভি'র জ্ঞান ফিরে দেখে তার ফারহান আংকেল পাশে বসা। অনিতা বাবা মা কাউকে দেখতে না পেয়ে অস্থির হয়ে যায় আলভি। কোনভাবে বুঝিয়ে একদিন পরে আলভি কে ডিসচার্জ করে মি. ও মিসেস ফারহান নিয়ে আসেন ওর বাসায়।
ছোট্ট আলভি অবাক হয়ে দেখছিলো তাদের বাড়িতে অনেক মানুষ! এতো মানুষের ভীড়ে সে তার বাবা কে দেখতে পেলেও মা কে দেখতে পায় না। বাবা'র কোলে বসা বছর খানেকের অবুঝ ছোট্ট অনিতা। বাবা'র মাথায় আর অনিতার হাতে ব্যান্ডেজ লাগানো।
বাবা'র কাছে ছুটে যেয়ে বলে " আব্বুহ!!.... আম্মি!!... আম্মি কই??!!..."
ওর এই প্রশ্নে সবার কান্নার রোল যেন এক গুণ বেড়ে যায় মি. আফতাব ছেলে কে বুকে জড়িয়ে আহাজারি করে ওঠেন।
কেউ একজন আলভি'র মাথায় হাত রেখে বলেন " আম্মি আর কোনদিন আসবে না বাবা!!!.... ওই যে তোমার আম্মি!!.... মারা গেছে!!....."
চকিত নজরে আলভি তাকিয়ে দেখে ওর আম্মি কে সাদা কাপড়ে পেচিয়ে একটা খাটে শুইয়ে রাখা।
" আ...আম্মি!!!.... আম্মি!!... আম্মি" চিৎকার করে ছুটে যায় আলভি। এতবার ডাকার পরেও ওর আম্মি আর সাড়া দেয় না। আলভি ছোট হলেও এটুকু সে ভালোই বুঝতে পারছিলো ও ওর আম্মি কে হারিয়েছে চিরকালের জন্য। কে আর আম্মির মত ভালোবাসবে? আম্মি কে ছাড়া কিভাবে থাকবে? আম্মি কি আর কোনদিনই কথা বলবে না?? দেখতেও পাবে না আম্মি কে???
এত শত প্রশ্নের চাপ সইতে না পেরে আলভি সেখানেই জ্ঞান হারায়।
-----------------------------
অনিতা নিজ রুমে যেন কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছেনা। উপায়ন্ত না পেয়ে সুপ্তি'র রুমে এসে নক করে।
: আসো অনিতা আপি!!.... কি হয়েছে??..... জানতে চায় সুপ্তি
: আসলে.... ভাইয়ার জন্য খুব টেনশন হচ্ছে...
: কেন? কিছু হয়েছে?...
: তুই তো জানিস... ভাইয়া কষ্ট কে চেপে রাখবে তাও মুখে হাসি নষ্ট হবে না...
: হুম্মম.... আলভি ভাইয়া আগের চেয়ে আরো গম্ভীর হয়ে গেছে...
: আমি একটু বড় হয়ে দেখছি...আম্মির জন্য.... ভাইয়া কে নিজের রুমে লুকিয়ে কান্না করতে কিন্তু আমাদের সামনে সে একদম স্বাভাবিক!!!......
: এতবছর পরে আবার সেই অফিসে!!....
: হ্যাঁ!!.... আমি সেটাই ভাবছি... সুপ্ত আছে তাও... আর বাবা তো ওতটা খিয়ালও করবেন না....
: আমারও এখন কেমন যেন লাগছে আপি.... আজকের এই দিনে উনা কে তো স্বাভাবিক থাকতে হবে!!...
: ব...বলছি...মতিন কাকা কে নিয়ে চল না যাই?...
: ঠিক আছে... তৈরি হয়ে নাও... আমি মা কে বলে আসছি.... বলে সুপ্তি রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
মিসেস ফারহান অনুমতি দিলে "কুঞ্জন ভিলা" থেকে ড্রাইভার মতিন কাকা ওদের নিয়ে বেরিয়ে পরে। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব খুব বেশি না গড়ে পয়তাল্লিশ মিনিটের মতো সময় লাগে পৌছতে। অনিতা গাড়ি থেকে নেমে সুপ্ত কে কল দেয়, বলে ওদের কে ভিতরে নিয়ে যেতে। সুপ্ত কল পেয়ে দ্রুত চলে আসে।
: কি ব্যাপার!! তোরা হঠাৎ অফিসে কেন?....
: সুপ্ত!! ভাইয়া কেমন আছে?? জানিস??!!....
: হুম্মম.... আলভি একটু অস্থির ছিলো... এখনো আন্টির কেবিনেই বসে আছে....
: ত...তুই একটু বোঝা না!!...
: আমিতো বলেছি.... তোরা আয় না!! দেখা কর!!....
সুপ্ত ওদের কে নিয়ে তিন তলার অফিস রুমের পার্শ্বে একটা লম্বা করিডরে এসে দাঁড়ায়। করিডর থেকে স্পষ্ট দেখা যায় রুমটা। প্রায় সব গুলো লাইট বন্ধ, কিন্তু ভেতরে কেউ একজন আছে এটা কোনমতে বোঝা যাচ্ছে। অনিতা ইতস্তত করে এগিয়ে যায় ওর মায়ের অফিস রুমের দিকে, দরজায় হাত রেখে পিছন ফিরে তাকায় সুপ্ত, সুপ্তি'র দিকে ওরাও চোখের ইশারা করে ভিতরে যেতে বলে। অনিতা কিছু একটা ভেবে ফিরে এসে বলে " সুপ্তি!!... তুই যা..."
: আ... আমি... কেন?!...
: তুইই যা... ভাইয়া কে আমি হয়ত স্বাভাবিক করতে পারবো না!!....
: এটা কেমন কথা আপি!!... উনি তোমার ভাই!!...
: কিন্তু তুই আমার চেয়ে বেশি কাছের!!...
সুপ্তি এবার অবাক হয়ে সুপ্ত'র দিকে তাকায়। সুপ্তও চোখের ইশারায় ওকে যেতে বলে। সুপ্তির তো একথা শুনে এখনই হাত পা কাপা শুরু হয়ে গেছে কিন্তু তাও নিজেকে সামলে পা বাড়ায় অফিস কক্ষের দিকে। কাপা হাতে দরজা খুলে ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আড়ষ্ট গলায় ডাকে " আলভি ভাইয়া!!..."
ডাক শুনে আলভি মাথা তুলে চেয়ে সুপ্তি'কে দেখে ম্লান হেসে বলে " এবার তুইও আমার ভ্রম হয়ে এলি!!...." আলভি'র কথার অর্থ বোঝে না সুপ্তি তাই সে চুপ থাকে।
আলভি আবার ভেজা গলায় বলে " আম্মি!!... তুইই!!... তোরা কি কোনদিন বাস্তবে আমার হবি না!!!.... আমার যন্ত্রণা কি শুধুই ভ্রম হবে!!....."
আলভি'কে এভাবে অঝরে কাঁদতে দেখে সুপ্তি দ্রুত এগিয়ে যায় বলে " আপনি এভাবে কাদছেন কেন আলভি ভাইয়া??!!!..."
বিস্মিত আলভি ঝট করে চোখ মুছে বলে " সুপ্তিই!!... ত... তুই!!... এখানে কেন?!..."
: কেন?...এসে কি ভুল করেছি?
: হ্যাঁ!... ত...তুই পারমিশান নিয়েছিস?...
: কিছু সময় পারমিশান না নিয়ে যেটা রাইট সেটা করা উচিত!!....
: এই শোন!! বাচ্চা আছিস বাচ্চাদের মত থাক... এত কেন বড় দের মতো কথা??.... মৃদ্যু ধমক দেয় আলভি
: আলভি ভাইয়া!!... মানছি পারমিশান নিতে হতো.... কিন্তু আমিতো জানতাম আমার মতো আপনিও মন খুলে কথা বলেন....
: তো আমি কি মন ঢেকে রেখে কথা বলি?...
: আজকে নিজে চোখে দেখলাম!!... নিজের কষ্টটা কি শেয়ার করা যায় না?!....
: হাহাহা... আচ্ছা গুড!!... আমি আমার আম্মি কে প্রচন্ড ভাবে মিস করছি... তুই পারবি আমার এই যন্ত্রণা কে হালকা করতে??.... পারবি??
: ..... ......... .....
: কি হলো বল??...
: আমি আপনার কষ্ট অনুভব করতে পারছি.... কিন্তু এটাও তো সত্যিই যে.... মৃত্যু সবারই হবে...
: হুম্মম... কিন্তু আমার আম্মি কে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে.... গম্ভীর হয়ে বলে আলভি
: ম... মানে?
: অন্ধকার অতীত!!...
: ক... কিছুই বুঝলাম না?
: হুম্ম??.... আচ্ছা বাদ দে.... ফরগেট ইট!!... কখন আসলি??
: হাহা... এড়িয়ে যাচ্ছেন.... যাইহোক... এই কিছুক্ষণ হলো...অনিতা আপিও এসেছে....
: কোথায় ও?
: করিডরে.... ভাইয়াও আছে...
: ওকে... চল... আর হ্যাঁ শোন!!...
: হুম্ম??
: আ... বলছি...
: হুম... হুম... বলেন!..
: নাহ!! কিছুনা!.... চল...
আলভি কে এমন দ্বিধাগ্রস্ত হতে দেখে এক প্রকার শব্দ করেই হেসে দেয় সুপ্তি এরপরে বলে " সত্যিই... অবাক লাগছে... বলেন না কি বলবেন....হাহাহা..."
সুপ্তি'র চোখের দিকে গভীর ভাবে চেয়ে আলভি বলে
" ভালো করেছিস এসে!!....."
মৃদ্যু হেসে সুপ্তি চোখ নামিয়ে নেয়। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে ওর উন্মুক্ত ললাটে। সুপ্তি' কে এমন বিব্রত হতে দেখে দুষ্টামি ভরা হাসি খেলে যায় আলভি ওষ্ঠদ্বয়ে। সুপ্তি'র মাথায় একটু টোকা দিয়ে বেরিয়ে যায় করিডরের দিকে। সুপ্তি'র যেন সবকিছু কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়, থ হয়ে দাড়িয়ে থাকে।
আলভি আসছে দেখে সুপ্ত অনিতা কে বলে " দেখ!!... আলভি দিব্বি হাসিমুখে আসছে...."
অনিতাও ভাইকে দেখে বলে " হুম্মম... আই গেজড ফাস্ট!!..... ভাইয়া'র হাসির কারণ শুধু মাত্র সুপ্তিই হয়!!....."
অনিতার শেষ কথা শুনে সুপ্ত ভ্রু কুঞ্চন করে আলভি'র দিকে তাকিয়ে ছিলো। তুড়ি বাজিয়ে ধ্যান ভাংগায় আলভি " কিরেহ!!! .... কি এত ভাবছিস!!...
: তুই হাসছিস যে!!... সুপ্তি কি এমন বললো?!...
আলভি মুচকি হেসে বলে " হুমহ!!!.... ভালো জনকেই পাঠিয়েছিস আমাকে কনভেন্স করতে... হাহাহা.... সুপ্তি কিছুই বলেনিরে... ওর কান্ড দেখলেই আমার হাসি পায়....."
: ওহ!!.... চল হাতে আর এক ঘন্টা সময় আছে... ফাইল দেখে নিই.... বলে সুপ্ত
: হুম্মম... অনিতা!!...তুই আর সুপ্তি ক্যান্টিনে যা আমরা ওখানেই আসছি ওয়েট কর!!.... যা বোনু!!... বলে আলভি আর সুপ্ত চলে যায় অন্যদিকে।
সুপ্তি আর অনিতা মন্থর গতিতে ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ায়। যেতে যেতে সুপ্তি অনিতা কে বলে " আপি!!... তুমি শুধু শুধু আমাকে পাঠালে... দেখতো ভাইয়া কত ভালো করে কথা বলে তোমার সাথে!!..... "
অনিতা স্মীত হেসে সুপ্তি'র কাছে জানতে চায় " আচ্ছা সুপ্তি!!.... তোর বেস্টফ্রেন্ড কে?!"
: এ... এখানে বেস্টফ্রেন্ড এলো কই থেকে?...
: বল না!!....
: নাবিলা....
: আরেকটু ভেবে বল.... মানে যার কাছ তোর কোন কিছুই বলতে দ্বিধা হয় না.....
: নাবিলার সাথেই তবে...
: হুম্ম... তবে??....
: আলভি ভাইয়া!!.... কিন্তু এত বছরে অনেকটাই দূরত্ব হয়ে গেছে আমাদের!!...
: কিছুই হয়নি...
: হুম্মম??!!....
: হুম্মম.... ভাইয়া কানাডা থাকতে একদিন আমি সেম কোয়েশ্চিন ভাইয়া কেও করেছিলাম.... প্রথমে সুপ্ত'র কথা বলেছিলো.... পরে তোর কথা.... জানিস!! তখন আমি ভাইয়া কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এখন তো সুপ্তি'র সাথে কথা বলিস না.... তাও সুপ্তি কিভাবে হয়??.... তখন ভাইয়া বলেছিলো সম্পর্ক হতে হয় হৃদয়ের গভীর থেকে.... কথা না বললেই কি??......
অনিতা'র কাছে এমন কথা শুনে পুলোকিত হয়ে যায় সুপ্তি কিন্তু তা অতি সঙ্গগোপনে লুকিয়ে রাখে হৃদয় মাঝে।
ক্যান্টিনে যেয়ে সুপ্তি অনিতা মিলে কোম্পানির স্পেশাল ফুড আইটেম থেকে কিছু খাবারের অর্ডার দিয়ে একটা টেবিলে এসে বসে। হঠাৎ
কোত্থেকে যেন এক যুবক ছেলে এসে অনিতা কে সম্বোধন করে বলে " হেই ডার্লিং!!... হুয়াট'স আপ?!...
: অল গুড!! বাট আই থিংক আ'ভ নেভার সিন ইউ!
: ইয়াহ!... সো হুয়াট?!!...
: সো হুয়াই আর ইউ কলিং মি ডার্লিং???.... ঝাঝালো কন্ঠে বলে অনিতা
: হেই কাম ডাউন!!... আ'ম ইনট্রোডিউসিং মাই সেলফ!!....
: ইট'স বেটার ইফ উই স্পীক বাংলা!!...
: ওকেহ!!....আমার বাবা ফায়সাল খান... আমি ফারাবি খান.... মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্রাজুয়েশন করেছি....
: ওহ! আচ্ছা আপনিই তাহলে ফায়সাল আংকেলের ছেলে?!...
: জ্বি!!...
: তাহলে আমাকে হটাৎ এই নামে ডাকার কারণ?....
: আসলে বলতে পারো... সরি তুমি বলছি...
: ইট'স ওকে!...
: তুমি মনেহয় জানো না... আ... আমাদের বিয়ের কথা হচ্ছে!!...
: বিয়েহ!!... ম... মানে?!...
: হুম!!.... তাই আমি আসলাম নিজে তোমার সাথে আগেই কিছু পছন্দ অপছন্দের কথা শেয়ার করে নিই.....
আলভি আর সুপ্ত কিছুটা আড়ালে থেকে ফারাবির এই কান্ড দেখছিলো কিন্তু এবার সুপ্ত মাথা গরম হয়ে যায়। আলভি বাধা দেয়া সত্যেও সুপ্ত দ্রুত যেয়ে ফারাবি'র পাশে দাঁড়ায় " হেই ফারাবি!!....হোপ এভরিথিং ইজ ওয়েল!!....." বলে হাত বাড়ায়।
ফারাবিও হাত বাড়িয়ে বলে " ইয়াহ!!... এভরিথিং ইজ গুড...."
এবার সুপ্ত ফারাবি'র হাতে চাপ দিয়ে কন্ঠ কিছুটা ভারি করে বলে " তুমি মনেহয় জানো না অনিতা'র বড় ভাই আছে.... এর চেয়েও বড় কথা ওর নিজস্ব মতামত আছে.... এজন্য যদি কিছু বলারই থাকে তবে আমাদের কে বলো না ভাই!!.... সরাসরি এভাবে মেয়ে কে বলতে নেই!!....."
ফারাবি তীক্ষ্ণ হাসি দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয়। শুধু একবার আলভি'র দিকে তাকিয়ে দ্রুত প্রস্থান করে। সুপ্ত রাগে লাল হয়ে গেছে দেখে আলভি মুচকি হেসে জুসের গ্লাস এগিয়ে বলে " নে ভাই!!.... তুই এত ক্ষেপে যাবি আগে বুঝিনি!!....হাহাহা...."
: এটা হাসির কথা না আলভি!!.... এভাবে কেউ কখনো মেয়ে কে প্রস্তাব দেয়.... অনিতা কতটা অস্বস্তি বোধ করেছিলো... আজব!!
: হুম্মম.... তারমানে বাবা এসব প্ল্যান করেছে!!.... উফফ!!... কি করবো বলতো??
সুপ্ত কিছু বলার আগেই মাথা নিচু করে অনিতা বলে " ভ... ভাইয়া!!... আমার ওকে ভালো লাগেনি!!...."
আলভি অনিতার মাথায় হাত রেখে বলে " বোনু!!... তোর ভাইয়া তো এখনো বেচে আছে... ভাবিস না!!....."
: অনিতা জাস্ট ভুলে যা!!... কিচ্ছু হবে না এমন!!..." বলে সুপ্ত
: কিরে সুপ্তি!! নে... তাড়াতাড়ি শেষ কর... আমরা মিটিংয়ে যাওয়ার আগেই তোদের গাড়ি করে দিবো.... বলে আলভি
নাস্তার পর্ব চুকিয়ে সুপ্তি অনিতা কে বিদায়ের জন্য আলভি সুপ্ত নেমে আসে নিচে। সবাই চুপচাপ হাটছিলো, একটু ক্ষীণ কন্ঠে আলভি বলে " দাড়া!!..."
সুপ্তি যেন এ কথারই অপেক্ষায় ছিলো সাথে সাথেই দাড়িয়ে যায়।
: কিছু বলবি?!...
: উমহুম...
: তাইলে বিল্লির মতো করে ক্যান তাকাচ্ছিস?!
: এই শোনেন!! উলটা পালটা বলবেন না!!...
: ঢং না করে জলদি বল কি বলবি?... দেখ সুপ্ত অপেক্ষা করছে....
: বেস্ট অফ লাক!!.... আর মাথা ঠান্ডা রেখে ডিসিশান নিবেন....
: হুম্মম... শোন বাড়ি যেয়ে মেসেজ করিস...
: হাহ!! দিবাস্বপ্ন দেখেন... দিমুনা..
: আমারও কোন প্যারা নাই!!.... খালি মনে রাখিস এটা যেন না শুনি আমি কার সাথে কথা বলবো... উম হু হু হু....
: আমাকে ভেংগাচ্ছেন!!
: নাহ! ওয়ারনিং দিলাম.... যা সাবধানে... বাই!!
: হুম... বাই....
সুপ্তি'র মন চাচ্ছিলো আরো কিছুটা সময় আলভি'র সাথে কথা বলতে কিন্তু শেষ একবার চোখের ইশারায় বিদায় জানিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। আলভি'র ঠোটের কোনে ফুটে ওঠে স্মীত হাসি।
দু'বন্ধু ড্রেসিং রুমে যেয়ে রেডি হতে হতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো শেষ আরেকবার নিজেরা আলোচনা করে নেয়।
0 Comments