লেখিকাঃ আশা রোজমেরি
রাজ্যের এমন দূরাবস্থায় মহারাজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।তিনি পূর্বের অবস্থায় ফিরে গিয়েছেন।বরং বলা চলে আরো করুন।মেরিটা প্রাণপণ চেস্টা করছে মহারাজ এবং রাজ্যের অবস্থার পরিবর্তন করার।এলাইসার অবর্তমানে মেরিটা এখন ফসলি জমিতে কাজ করেন।তার সাথে ডিউডি ও এঞ্জি যোগদান করেছে।তাদের এমন মহানুভবতা দেখে প্রজাদের পরিবারের মেয়ে বউরা কাজে নেমেছে।তাই আশা করা যায় এডিডাস রাজ্য বিপদ কাটিয়ে উঠবে শীগ্রই।
----------------★----------------
সূর্যদয়ের সাথে সাথে সূর্যের সাথে পা মিলিয়ে এডমাইন,এলাইসা ও এঞ্জি চললো মায়া বনে।মায়া পরী তাদের দেখে সাদরে গ্রহন করলো।তারপর বনের সব রকমের ফল পেড়ে দিলো।পাহাড়ি খাবার আর ফলমূল নিয়ে এলিন চললো এডিডাস রাজ্যের গন্তব্যে।
এলাইসা, এডমাইন পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তায় হাত ধরে এগিয়ে চললো ভালো লাগার আবেশে।তারা সোজা জুম চাষের জমিতে গেলো।তারা দুজন ধান কাটা শুরু করেছে।দুই দিনের মধ্যে কাটা শেষ করার উদ্দেশ্য তাদের।তাহলে পাহাড়ি লোকদের সারা বছরের বরাদ্দকৃত চাল এডিডাস রাজ্যে পাঠানো হবে।তারপর আধিবাসী মহিলাদের দিয়ে ধান থেকে চাল করে আদিবাসীদের জন্য আবার সারা বছরের চাল গুদামে রাখা হবে।
দুপুরের রোদ মাথায় নিয়ে এলিন ফিরে এলো এলাইসার কাছে।সেও কাজে লেগে পরলো।তিন জনের প্রচেষ্টায় দু'দিনে ধান কাটা সম্পন্ন হলো।তার মধ্যেই রাজ্যে চাল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।আর আধিবাসী মহিলারা ধান সেদ্ধ করার কাজে লেগে গেলো।
ধান কাটার সাথে সাথে এডমাইন এলাইসা আর এলিন আবার চাষ-বাষের কাজে লেগে গেলো।বীজ প্রদান করলোএলাইসা।আর সেই বীজ হলো মায়া পরীর দেওয়া বীজ।নিজের রাজ্যে বপন করার পর অবশিষ্ট টুকু সে এখানে নিয়ে এসেছিলো।যাতে করে এডমাইন সাহায্য করলেও তার কোনো অসুবিধায় পরতে না হয়।
সেজ্যোতি আলো উপভোগ করে তিন জন খুশি মনে পাহাড়ি কুটিরে এলো।এলাইসা আর এলিনকে রেখে এডমাইন নদীতে গোসল করতে গেলো।এলাইসা ও এলিন এর জন্য হেনরি পানি নিয়ে এলো।তারা তোলা পানি দিয়ে গোসল করে নিলো।তারপর বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।এর মধ্যেই এডমাইন ফিরে এলো।তার কাজ করার অভ্যাস থাকার কারনে বেশি ক্লান্ত হয়নি।তাও সে অন্য রুমে গিয়ে বালিশে মাথা রাখলো।খানিক পরে তারা সবাই মিলে রাতের আহার করে নিলো।দুই রুমের কুটিরে হেনরি শুয়েছে ছেলের সাথে।এট্রেসি শুয়েছে এলাইসাদের সাথে।এট্রেসির কেমন টান কাজ করলো এলাইসাকে এতো কাছে পেয়ে।তার মনে হতে লাগলো, কোনো পূর্বের সম্পর্ক রয়েছে তাদের।ভাবতে ভাবতে সেও ঘুমে তলিয়ে গেলো।
-----------------★--------------
রাজ্যে এলাইসা নেই তিন দিন বয়ে গেলো আজ চতুর্থ দিনের শুরু।এলাইসার অবর্তমানে কিন্তু রাজ্যবাসীও থেমে নেই।ফসল বেড়ে উঠছে তাড়াতাড়ি।সেই মোতাবেক তারাও সার দিচ্ছে,নিড়াচ্ছে,পানি সরবরাহ করছে।রাজ্যের প্রতিটা কোণা যেনো হাসিতে খুশিতে মেতে উঠেছে।এমন দূরাবস্থাই বুঝিয়ে দেয় ভালবাসা কাকে বলে।
অন্যদিকে,
রাজকন্যা আর এলিন পাহাড়ি সাজে সাজিয়েছে হেনরি আর এট্রেসি মিলে।পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেছে।তাদের এই সাজ প্রকৃতির সাথে মিলে গেছে।একদম প্রকৃতি কন্যা মনে হচ্ছে।
এমন রুপ দেখে এডমাইন, এলাইসার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেললো।নিজের অবস্থান ভুলে এলাইসাকে ভালবেসে ফেললো।তারপর তার প্রকৃতি কন্যাকে প্রেম নিবেদন করার জন্য তার প্রিয় জায়গা পাহাড়ের কাছে চলে গেলো এবং চিঠি লিখতে বসলো।
[প্রকৃতি কন্যা (এলাইসা)
তোমাকে নিয়ে অনেক কথারাই মনের শৈলশালায় শোভা পায়।কিন্তু তোমাকে বলা হয়না।আমি এখন পাহাড়ের কাছে বসে।যেখানে পাহাড়ের ঢল ঘেঁষে ঝর্ণার জল নেমেছে।সমুদ্রের বুকে উত্তাল ঢেউ।তাও সমুদ্রের মোহনাতে ভালবেসে মিশে যাবে জানি।এমন মহামিলন দেখে তোমাকে না বলে পারলাম না প্রকৃতি কন্যা।ভালবেসে ফেলেছি তোমায়।আমরা কি ঝর্নার জল আর সমুদ্রের মোহনা হতে পারিনা?
প্রকৃতির রূপের মতো সুন্দর আর কিছু নেই।তুমি-ই আমার প্রকৃতি।চারপাশের এই সবুজ বিস্তরে আমি কেবল তোমাকেই খুঁজে পাই।বাতাসের গতি যেনো তোমার নিশ্বাসের চলাফেরা।আমি তাই বুক ভরে নিশ্বাস নেই।তুমি কখনো হারিয়ে যেওনা।তাহলে আমার নিশ্বাসেরা বন্ধ হয়ে যাবে।
ঘাস ফুল দিয়ে একটি আংটি গড়েছি।তোমার অনুমতি পেলেই পরিয়ে দিবো।হীরে বা সোনার মিশ্রণ নেই বলে তুমি ফিরিয়ে দিবে না তো?
আসলে, আমি তোমাকে প্রকৃতির মতো ভালবাসি।তাইতো শ্যামল সৌন্দর্যে তোমাকে সাজাতে চাই।তোমাকে সাথে নিয়ে বাঁচতে চাই।রাজকন্যা, তুমি আমার প্রকৃতি কন্যা হবে? বৈষম্য ভেঙে ভালবাসবে এই সামান্য আদিবাসী আমায়? বৃদ্ধ হবে আমার সাথে??
ইতি
তোমার প্রকৃতি প্রেমিক]
এর মাঝেই ঐতিহ্যবাহী সাজ নিয়ে এলাইসা আর এলিন পাহাড়ি একটা ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে ঝর্না দেখতে দেখো।এসেই দেখে এডমাইন পাহাড়ের উঁচুতে।এলাইসা সেখানে উঠতে চাইলো।এডমাইনা পাহাড়ে উঠার রাস্তা দেখিয়ে দিলো।এখানে সে সময় কাটায় বলেই সিড়ি করে রেখেছে এই উঁচু পাহাড়টায়।তাই রাজকন্যার কোনো সমস্যা হলো না পাহাড় চূড়ায় উঠতে।সেখানে পৌঁছাতেই সে রাজকন্যাকে চিঠি বিনিময় করলো।আর বললো এটা যেনো রাজ্যের দুরাবস্থা কাটার পর দেখে।এলাইসা কথা দিলো সে তখনই দেখবে।এডমাইন চায়নি এমন অবস্থায় রাজকন্যার মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলতে।
তারাপর তারা নিচে নেমে এলো।এডমাইন তাদের ঘুরতে নিয়ে গেলো পাহাড়ি দর্শনীয় বাগান দেখাতে।সেখানে একপাশে রয়েছে ফুলের বাগান।অন্যপাশে সবজি আর ফলের গাছ।এছাড়াও রয়েছে ভালো ভালো কাঠ গাছ।এলাইসা আর এলিন মুগ্ধ হয়ে গেলো।এডমাইন একটা বনজ গোলাপ ছিড়ে রাজকন্যাকে দিলো।অন্য পাশে থেকে বেলী ফুল নিলো কিছু।এট্রেসিকে বলবে মালা গেঁথে রাজকন্যার খোঁপায় পরিয়ে দিতে।
তারপর তারা দুপুর করে বাড়ি ফিরে গেলো।দুপুরের আহার শেষ করে তারা গল্পে মেতে উঠলো।গল্প করার সাথে সাথে এট্রেসি বেলীর মালা করে ফেললো।তারপর রাজকন্যার খোঁয়ায় শোভা পেলো।এডমাইন মুগ্ধ হয়ে দেখলো।
বিকেল করে তারা চাষের জমিতে বেড়িয়ে পরলো।গিয়ে দেখলো সব ফসল অনেক বেড়ে উঠেছে।তারা কিছু পরিচর্যা করে সূর্যোদয়ের মধ্যেই কুটিরে ফিরলো।
0 Comments