লেখিকাঃ সাদিয়া আকতার
গেস্টরুমে সবাই মিলে গল্প করছে দেখে সুপ্তিও সেখানে যায় কিন্তু আলভি কে দেখতে না পেয়ে সখ্য কে বলে "সখু...আলভি ভাইয়া কইরে..."
: ভাইয়া তো চলে গেছে...
উত্তর টা শুনে সুপ্তির হাসি মাখা মুখটা মুহুর্তেই ম্লান হয়ে যায়। মন খারাপ করে সখ্য পাশেই বসে যায়।
মি. আফতাব ও ফারহাদ মিলে সুপ্ত আর আলভি'র জন্য রাখা গিফটের বক্সগুলো নিয়ে আসলেন গেস্টরুমে।
: কই রে সুপ্ত... আ.. আলভি.... ক... কি ব্যাপার আলভি কই??? জনতে চান মি. ফারহাদ
: উম্মম.... আমি একটু দেখে আসি চাচ্চু... বলে সুপ্ত বাড়ির বাইরে আসে।
আলভির নাম্বারে রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না দেখে সুপ্ত কিছুটা চিন্তায় পরে যায়।
-----------------
দরজায় ঝুলানো তালাতে এক আস্তর ধুলো জমেছে। কাপা হাতে আলভি সেই তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে ধুলোয় মেশানো ভ্যাপসা গরম বাতাস নাকে লাগতেই গলা বুক চিড়ে বেরিয়ে আসে বার কয়েক কাশি। নিজে স্বাভাবিক হয়ে ধপ করে খাটে বসে পরে। হ্যাঁ,, আলভি খুব ক্লান্ত, কিন্তু এ ক্লান্তি তার দীর্ঘ যাত্রাপথের নয় বরং নিজের অস্পষ্ট অতীত স্মৃতি কে বয়ে বেরানোর। আলভির চোখ দু'টো বন্ধ বুকের ভিতর কে যেন আঘাত করেই চলেছে যেকারণে গাল বেয়ে টপটপ করে ঝরছে অশ্রুকণা।
কম্পিত ঠোঁটে অস্ফুটস্বরে বলে, "খ.... খুব তো ভালোই আছো.... কি এমন অপরাধ করেছিলাম যে আ... আমাকে ছেড়ে গেলে.... জানো... তুমি কি জানো আমার জ... জীবনে আপন মানুষ হারানোর ভ...ভয় এখন কত বেশি.... আমাকে আর কত মানুষ কে হারাতে হবে!!!.... আমি আর চাইনা এমন....
আহ....হা..... হা..... বলে আলভি এবার জোরে শব্দে কান্না করে দেয়। বেশ কিছুক্ষণ আপন মনে কান্না করে নিজেকে বুকের ভিতরের বোঝা'কে হালকা করে নেয় আলভি।
অনেক্ক্ষণ হলো তার এখানে আসা। সুপ্ত হয়ত তাকে খুজছে ভেবে তড়িঘড়ি ফোন টা বের করে দেখে উনিশ টা মিসড কল সুপ্তের। এত যন্ত্রণার মাঝেও আলভির ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসি খেলে যায়, কল দেয় সুপ্ত কে
: হ..হ্যাঁ..হ্যালো...আভি তুই ক....কোথায়...?
: একটু কাজে বেরিয়েছিলাম ...আসছি...
: কাজ?....আমাকে মিথ্যা বলিস?.... ওখানেই আসছি আমি আর দু মিনিট লাগবে...
: হুমহ...আয়!!
আলভি যে এখনো এই বাড়ির সাথে সম্পর্ক রেখেছে এটা শুধুমাত্র সুপ্ত'র জানা ছিলো। এত বছর পরে ফিরে যে আলভি প্রথমে এখানে আসবে না, এ হতেই পারে না।
খানিকবাদে কেউ করাঘাত করলে আলভি দরজা খুলে দেখে সুপ্ত দাঁড়িয়ে। বিষন্ন মুখে হাসির ভাব করে আলভি বলে " নক করার কি আছে,,,,আয়,,,"
সুপ্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আলভি'র আপদামস্তক দেখে জড়িয়ে ধরে বলে "তুই ঠিক আছিস ভাই...."
: হুম্মম...বলে আবার ফুপিয়ে উঠে।
সুপ্ত আলভি কে খাটে বসিয়ে কাধে হাত রেখে বলে " জানি তোকে কোন শান্তনাই শান্ত করতে পারবে না.... কিন্তু এভাবে আর কতদিন নিজেকে কষ্ট দিবি...."
: আ...আহ!!!... যত দিন বেচে থাকি!!
: জীবন মানেই তো সুখ দুখ....
: কিন্তু সেই দুখ টা যদি কেউ ইচ্ছাকৃত আমাকে দিয়ে থাকে??
: তুই বল? তুই কি এর জন্য শাস্তি দিতে পারবি কাউকে?...বল?
: জানিনা...
: ওটা এক্সিডেন্ট ছিলো আলভি!!!
: অন্তত ত....তুই এ কথা বলিস না...
: আচ্ছা...সরি ভাই আমার.... দেখ তোর কিন্তু অনেক দায়িত্ব এখন.....এভাবে ভেঙে পড়লে হবে....হুম??
: চল বাড়ি যাই...
: হুম....চল...সুপ্তি মুখ কালো করে বসে আছে....
: সুপ্তিই আমাকে বের করে দিয়েছিলো....বলে বাকা চোখে তাকায় আলভি।
: আমি ভাই এরমধ্যে নাই....ছোট থেকেই তোদের মামলা কে আমার খুব ভয়....
: হইছে....চল...
ফিরে যাবার সময় আলভি ঘর'টার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে উঠে বসে।
নিশ্চুপ আলভি'কে স্বাভাবিক করতে সুপ্ত বলে....
: দেশের কত পরিবর্তন হইছে তাই না....
: হুম্মম....শাসক ঠিক থাকলে সব কিছুই ঠিক থাকবে....
: হুম্ম...বলছি তুই কি তোর বাসায় যাবি?
: কেন?...তোর বাড়িতে আমার রুম নেই নাকি??
: কি যা তা বলিস...আছে তো...
: তাহলে?...
: আংকেল কষ্ট পায় রে...
: আহ!! হয়ত... কিন্ত আমি তার চেয়ে বেশি পাই...
: হয়েছে.... এখন আর মুখ ভার করিস না.... এতদিন পরে আসলাম...
: ওকেহ!...নীলু'র কি খবর?
: জানিনা.....সুপ্তি কে বলতে হবে.... তোর শুভ্রা??
: আমিও জানিনাহ!!! বলে মলিন হাসি দেয় আলভি।
আলভি আর সুপ্ত' র বাড়ি পৌছতে সন্ধ্যা পার হয়ে যায়। ওরা ফিরে আসাতে সবার হই হুল্লোড় বেধে যায়। আলভি ঠিক আছে কি না, এতক্ষণ কই ছিলো। সবার শোরগোল শুনে সুপ্তিও বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। আলভি হাসিমুখে সবাই কে আস্বস্ত করলেও ওর চোখ মুখে ছিলো ক্লান্তির ছাপ।
" নিন..." বলে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেয় সুপ্তি।
আলভি পানি নিতে হাত বাড়িয়ে সুপ্তির চোখের দিকে তাকাতেই, সে চোখ নামিয়ে নেয়। সুপ্তির কেমন যেন অস্বস্তি অনুভব হয়।
: ভাইয়া.... ফ্রেশ হবি না? জানতে চায় অনিতা।
: হুম্মম...
: আমি তোর রুমে সব কিছু দিয়ে এসেছি....
: আচ্ছা.... বলে আলভি তার রুমে চলে যায়।
এতক্ষণে সুপ্তি হাফ ছাড়ে, আলভি আশেপাশে থাকলে ইদানীং কেমন যেন অদ্ভুত অনুভব করে। শৈশবের সেই অবাধ মেলামেশা আজ দ্বিধায় পরিবর্তন হয়েছে। আলভি'কে তার একটু বেশিইইই.....
: সুপ্তিইইই....এই সুপ্তিইই...
: ক...কেহ? হঠাৎ কেউ নামধরে ডাকায় চিন্তায় ছেদ পরে সুপ্তির।
: কিরে.... শুনিস না ক্যানো...
: আ..আসছি...আলভি ভাইয়া...বলে দ্রুত পদে আলভির ঘরে যায়।
: আসবো?..
: হুম্মম...
: ডাকছিলেন যে....
আলভি কিছু না বলে ধীর পায়ে সুপ্তির দিকে এগিয়ে আসছে দেখে ও নিজেকে প্রায় দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নেয়।
: এটা কিহ?
: হ্যাঁ....ক....কোন টা কি?
: তুই এরকম তোতলাচ্ছিস ক্যানো?...
: কই...ন...না তো...
: সুপ্তি!!!
: হ্যাঁ?
: কিছুনা...
: ডাকছিলেন যে?
: এটা কি আমার টাওয়েল?
: ওহ!!....এনে দিচ্ছি...আমার কাছে আছে... বলে সুপ্তি বেরিয়ে যায়।
আলভি কিছু ভেবে কোমরে হাত গুজে মুচকি হেসে দেয়।
: এই যে...টাওয়েল...
: হুম্ম....থ্যাংকস তো দিলিনা...
: কিসের জন্য?.... অবাক হয়ে বলে সুপ্তি।
: গিফট'র জন্য... বলে বাকা চোখে তাকায় সুপ্তির দিকে।
নিজের বোকামি তে এখন সুপ্তির নিজেকেই মারতে ইচ্ছে হচ্ছে " ও...ওহো....আসলে আলভি ভাইয়া...."
: বুঝেছি... যা এখন...
: সরি ভাইয়া...
: মাইর চিনস.... এই তোর কি হইছে বলতো?
: ক...কোথায়?
এবার আলভি কৃত্তিম রাগ দেখিয়ে সুপ্তির মাথায় টোকা দিয়ে বলে " তাইলে তোতলাচ্ছিস ক্যান....."
: জানিনা...
: কেমন আছিস?....
: হুম্ম ভালো.... আপনি??
: এই!! তোর এই আপনি বলা থামাবি??...
: সময়ের সাথে অনেক কিছুই পাল্টে যায়....
: তাই বলে সুপ্তিও!!!
: হুম্ম...সুপ্তিও তো মানুষ... রোবট না...
: তোর কি ছোটবেলার কিছু মনে পরে না?...
: সবই মনে আছে.... সেজন্যই হয়ত.... সুপ্তির কন্ঠ চেপে আসে আর কিছু বলতে পারে না সে।
: এই পাগলি!.... কান্না করছিস ক্যানো....আমি আসলে..
চোখের পানি মুছে মেকি হাসি দিয়ে সুপ্তি বলে " থাক না ভাইয়া .... বলে কি হবে... সময় তো চলেই গেছে....
: সুপ্তি!!!....তুই কখনো পাল্টে যাসনা....কষ্ট পাবো অনেক....বলে কিছুক্ষণ সুপ্তি'কে একমনে দেখে আলভি ওয়াশরুমে চলে যায়। আলভি'র শেষ কথা টা সুপ্তি'র যেন হৃদয় নাড়িয়ে দেয়।
রাতে খাবার শেষে সুপ্ত, আলভি, সখ্য, অনিতা, সুপ্তি সবাই মিলে ছাদে যায়। মি. আফতাব চেয়েছিলেন আজকের দিন টা অন্তত আলভি বাড়িতে যাক কিন্ত সে আগের মতোই থেকে যায় সুপ্ত'দের বাড়িতে। এক দূর্ঘটনার পরে থেকে আলভি আর তার বাবা'র দূরত্ব হয়ে যায় ফলে সে বাড়িতে কম যেত। যেহেতু সুপ্ত'র বাবা আলভির মায়ের মামাতো ভাই ছিলেন এবং ওদের সাথেই জয়েন্ট বিজনেস অপরদিকে আলভি'র জীবনে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলো সুপ্ত তাই সেও এই বাড়িতে ছেলের মতই আদর পেয়েছিলো।
অনেক বছর পর ভাই বোন, কাজিনরা এক হয়েছে কতদিনের গল্প জমানো আছে। মাদুর পেতে বসে সাবাই। সুপ্ত হাসতে হাসতে বলে "অনিতা....তোর কি মনে আছে সুপ্তি যখন হয়.... আলভি ওরে কোলে নেওয়ার পর....... হাহাহা...."
: হিসু!!!....হাহা...তবে সুপ্তি!!.... আমার একটা অনুযোগ আছে....
: কি আপি?...
: ভাইয়ার থেকে তুই আমার সব আদরের ভাগ নিয়েছিস....
: বোনু ভুল বললি.... বোন কে বোনের মতই আদর দিয়েছি.... বলে আড় চোখে সুপ্তি'কে দেখে।
: মানছি না ভাইয়া.... সুপ্তিকে তুই ছোট থেকেই অনেক ভালবাসিস....
: হয়ত..... আচ্ছা সুপ্তি!!! তোর কি কোন কথা মনে আছে? বলে আলভি সুপ্তির দিকে তাকায়।
চাঁদের আলো সুপ্তির চেহারায় এসে পরেছে, আলভির কাছে সুপ্তিকে খুব মায়াবী লাগছিল।
: হুম্মম!!!....একবার আমার প্রচন্ড জ্বর হয়েছিলো..........
সুপ্তির কথায় আলভির স্মৃতিতে সেদিনের কথা ভেসে উঠে
---------------------------
ক্লাস ফোরের বাচ্চা মেয়ে সুপ্তি, প্রচন্ড জ্বর হয়েছে। তাপে শরীর পুড়ে যাচ্ছে অনেক কষ্টে মিসেস ফারহান সুপ্তিকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ সুপ্তি ঘুমের মধ্যেই ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠে। মিসেস ফারহান অনেক আদর করে বুঝালেও সুপ্তি কান্না করেই যাচ্ছিলো আর বারবার "আলভি ভাইয়া....আসো..." বলছিলো। এক প্রাকার নিরুপায় হয়ে পাশের রুম থেকে ঘুম জড়ানো আলভি কে ডেকে আনা হয়। সেদিন সারাটা রাত সুপ্তিকে বুকে জরিয়ে জেগেছিল আলভি। পরেরদিন আলভির ছিলো ফিজিক্স প্রথম পত্রের এক্সাম।
-----------------------------
: তারপর?? ঘোর লাগা কন্ঠে আলভি জানতে চায়।
: তারপর আর কি?.....পাল্টা সুপ্তিও প্রশ্ন করে।
এবার আলভি সচেতন হয়ে যায় কথা ঘুরাতে সখ্য কে বলে " কি ব্যাপার ছোট সদস্য!!!....তুমিও কিছু বল...."
: আমার তো তেমন কোন স্মৃতিই নেই শুধু মনে পড়ে তোমার সাথে সুপ্ত ভাইয়ার সাথে বল খেলেছি.....
: হুম্মম...বেশ তো...তখন তো তুমি ক্লাস ওয়ানের বাচ্চা....
: তবে কি জানিস তোরা... পরিবার ছেড়ে বিদেশ থাকা টা কিন্তু সহজ ছিলো না....অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হয়...কিন্তু আমি সেটা পারছি কারণ সাথে আলভি ছিলো বলে...... সুপ্ত আলভি'র দিকে দেখে
: তুই না থাকলে আমিও যে এলোমেলো হয়ে যেতাম.... বলে সুপ্ত'র কাধে হাত রাখে আলভি
: ভাইয়া জানিস আমি আর সুপ্তি কিন্তু একটা বিষয়ে অনেক কষ্ট পাইতাম!!.....
: কেন কি হইছিলো??....বলে সুপ্ত
: আসলে.... অনেকেই তো তাদের বড় ভাইয়ের সাথে স্কুল প্রাইভেট যাইতো কিন্তু আমাদের......... কথা শেষ করতে পারেনা অনিতা আলভি বুঝতে পেরে বোন কে কাছে টেনে নেয় সুপ্ত'ও সুপ্তি'কে। দুই বোন- ই অশ্রুপাত করছে। নিরবতা ভেঙে সখ্য বলে " ইয়ার অর কিতনা রোনা ধোনা বাকি হেয় তুম লোগোকা??.....চালো আব চালতে....রাত বহত হোগায়া......."
: হ্যাঁ রে.... আলভি... চল.... যাই...
: আসতেছি......তুই যা...
সখ্য সুপ্ত নেমে গেলে অনিতা সুপ্তি কে বলে " সুপ্তি.... চল... আমরাও যাই.."
সুপ্তি যাওয়ার জন্য উদ্বত হতে আলভি বলে " কিরে সুপ্তি!!!... তুই এখন আর চাঁদ দেখিস না??..."
: হ..হ্যাঁ....
: তো যাচ্ছিস ক্যানো?...বস...
: আচ্ছা...থাক তোরা আমি গেলাম খুব ঘুম পাচ্ছে.....বলে অনিতা চলে যায়।
সুপ্তি আলভি'র দিকে আড় চোখে তাকায়। কফি রঙের টি শার্টের সাথে ব্ল্যাক ট্রাউজার বেশ মানিয়েছে, ঘড়ি তার নেশার মতো এখনো পরে আছে। সুঠাম দেহের শ্যাম বর্ণের সুদর্শন যুবক। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে আপন মনে স্ক্রল করে যাচ্ছে, চুলের কিছু অংশ তার কপাল ছুয়ে দিচ্ছে। ঘন পাপড়ির চোখ জোড়ায় রহস্যময় ভাব। সুপ্তি ভাবছে এই মানুষ টার সাথে তার সাত বছর পর দেখা কিন্তু তার এখনো মনে আছে সে কি পছন্দ করে কি করেনা। তার চোখের ভাষা কত গভীর!!! হঠাৎ- ই সুপ্তি ভাবে সে এসব কেন ভাবছে। আলভিও তার কাছে বড় ভাইয়ের মতো। সে তার বড় ভাইয়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু!!! সে এমন কিছু ঘটালে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরবে।
এটা তার কৈশর কালের টান, এসব ভাবাও যে পাপ!!!!
: কি এত দেখছিস সুপ্তি!!....ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখেই বলে আলভি।
আলভির কথায় সুপ্তি ভেবাচেকা খায়। আসলে সে এসব কথা আলভির দিকে তাকিয়েই ভাবছিলো।
: ক...কই... তেমন কিছু না...
: তুই সত্যিই কেন পাল্টে গেলি??...
: আ....আমি কখন পালটে গেলাম!!
: এই যে!!! কেমন আপনি বলছিস... তোতলামি... আমার চোখের দিকেও তাকাস না....
: অনেক দিন পরে দেখা তাই....
: আমি তো এমন হই নি!!!
: সবাই কি এক?..
: সুপ্তি... তাকা এই দিকে!!...একবার তাকা আমার চোখে...
: উফফ...
: কেন পারলি না?!!...
: এটা কোন বিষয়?...
: যাবার আগে তোকে একটা কথা বলেছিলাম.... মনে আছে??
: হুম্মম?
: কি??...
: আপনি আমি দূর থেকে যখন চাঁদ দেখবো তখন আমাদের দৃষ্টি এক হয়ে যাবে....
: আর কি বলছিলাম?
: ফিরে এসে প....প্রথম... চ...চাঁদও আমার....স...সাথেই দেখবেন....
: কথা রেখেছি?...
: হুম্মম...
: তাহলে তুই আমাকে একটা কথা দিবি...
: কি??..
: সেটা তোর ইচ্ছা...
: ... .. .........
: বল..
: এটা কি আপনাকে শুনিয়ে বলতে হবে?
: হুম্ম..
: তাহলে থাক...
: ক্যানো??..... বল না সুপ্তি...
: যা কিছুই হোক আমি শুভ্র'র পাশে থাকবো আজীবন......
শুভ্র নাম শুনেও আলভির অজানা এক কারণে চেহারায় তার কোন প্রভাব দেখা গেল না।
: শুভ্র'কে তোর মনে আছে?
: কেন থাকবে না....এটাও মনে আছে সেই জ্বরের রাতেও আমি আপনার কোল মাথা রেখে শুভ্র বলে ডেকেছিলাম....
: চল....যাই...রাত অনেক হইছে...
: হুম্ম.. আচ্ছা আজকে কোথায় গেছিলেন...
: গেছিলাম.... আমার এক কাছের মানুষের কাছে...
: কে সে?...
: সময় হলে সব জানবি....
: ঠিক আছে...
: আচ্ছা শোন... নীলু কেমন আছেরে?
: কোন নীলু?!!!...
: ওই যে তোদের কে যেন... নীলিমা....
: ওই ডাইনির নাম কেন আপনার মুখে?
: বাপরে!!....এত জল্লাদ ননদ তুই!!
: অযথা কথা বলবেন না.... নীলু কোন দিনিই আর আমার ভাবি হবে না....
: মানে... এ....এসব তুই কি বলছিস!!!...
: নীলিমা অন্য একটা ছেলে কে বিয়ে করে নিছে... এক মাস আগে...
: ওহহো!!.... সুপ্ত!!!
: হ্যাঁ... আমিও ভাইয়ার জন্যই বেশি কষ্ট পাচ্ছি...
: আচ্ছা শোন সুপ্তি তুই আগেই কিছু বলিস না.... সুপ্ত কে আমি দেখছি... কেমন??
: আচ্ছা.... চলেন যাই...
সুপ্তি ঘরে যাওয়ার আগে আলভি আরেকবার বলে
: সুপ্তি!!!...
: হুম্মম..
: কথা দিয়েছিস....রাখবি তো??..
: হুম... গুড নাইট...
: গুড নাইট...
0 Comments