লেখিকাঃ তাহিনা আইরাত ইরা
আজ শাওনের জন্মদিন। এই কয়দিন এ প্রভা এবং মোহ'র সাথে ভালো বন্ধুত্বই হয়েছে তার। তাই তো আজ তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মোহ এবং প্রভা কে ডেকেছে। প্রভা এখন আর প্রহরের সাথে তেমন কথা বলে না। তেমন বলতে একদমই বলে না, প্রয়োজন ছাড়া। প্রহরও এই নিয়ে কোনো অভিযোগ করে না।নিজের ভাগ্য মেনে নিয়েছে সে।
সকাল থেকে সমস্ত কাজ করছে উষ্ণ আর তাদের আরেক বন্ধু। কাজ শেষ করে দরজার দিকে যেতেই দেখে প্রভা আর মোহ আসছে। মোহ কে দেখে দিতীয় বারের মত থমকে যায় উষ্ণ। আজও মোহ একটা নীল রঙা শাড়ি পড়ে এসেছে। চুলগুলো খোপা করা। মুখে কোনো প্রসাধনীর ছোঁয়া নেই। পাশে প্রভা ও শাড়ি পরে ছিল। কিন্তু সবার চোখ যেন শ্যামবর্ণা মোহ'র দিকে। অসম্ভব সুন্দর লাগছিল তাকে। যেন কোনো অপ্সরী..। ততক্ষণে মোহ'র নজরও উষ্ণের দিকে পরে গেছে। তবে তেমন একটা পাত্তা দেয় না। শাওন এসে তাদের দু'জন কে ভিতরে নিয়ে যায়।
অনুষ্ঠান চলে। এর মাঝে উষ্ণ ও মোহ'র মাঝেও কথা হয়েছে। উষ্ণ যে মোহ'র প্রেমে পড়ে গেছে তা মোহ ভালো ভাবেই বুঝে গেছে। মনে মনে হাসে মোহ। এভাবে তো প্রহরও তার প্রেমে পড়েছিল। শুধু যে উষ্ণ মোহ'র প্রেমে পড়েছে তা নয়। মোহ'র মনেও উষ্ণের জন্য এক অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে। যা প্রহরের জন্য কোনোদিন হয়নি।
মোহ'র ভাবনার মাঝেই একটা গুলি এসে তার পাশে দেয়ালে গিয়ে লাগলো। মোহ চমকে ওঠে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে, সবাই হুল্লোড় করছে। কেউ বুঝতেই পারেনি যে এমন জমজমাট অনুষ্ঠানের ভিতর কেউ গুলি ছুড়েছে।
- "তার মানে কেউ বন্দুকে সাইলেন্সার লাগিয়ে গুলি করেছে..।"
সেই যায়গা থেকে সরে যায় মোহ। বিশ্বস্ত কাউকে খুঁজতে থাকে এসব বলার জন্য। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ উষ্ণের সামনে পরে যায় সে। উষ্ণ মোহ'র এমন দৌড়াদৌড়ি করার কারণ বুঝতে না পেরে ইশারায় জিজ্ঞাসা করে। মোহ তাড়াতাড়ি করে উষ্ণের হাত ধরে কোনো নিরাপদ যায়গায় যাওয়ার জন্য। উষ্ণ তার হাতের দিকে তাকায়। মোহ শক্ত করে তার হাত ধরে রেখেছে। হয়তো উৎকণ্ঠায় নয়তো প্রয়োজনে।
মোহ উষ্ণ কে নিয়ে শাওনের কক্ষে যায়। ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তখনও মোহ'র হাত উষ্ণের হাতের ভিতরে ছিল।মোহ সেটা খেয়াল করতেই লজ্জায় হাত ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ায়।
উষ্ণ মোহ'র এমন করার কারণ বোঝে না। সে মোহ কে জিজ্ঞেস করে,
- "কী হয়েছে? হুট করে এখানে টেনে আনলেন যে?"
উষ্ণের কথায় মোহ বলে,
- "কেউ গুলি ছুড়েছিল। বন্দুকে সাইলেন্সার লাগিয়ে।"
উষ্ণ অবাক হয়। এই ভরা অনুষ্ঠানে কে গুলি করবে? তাও আবার সাইলেন্সার লাগিয়ে?
মোহ এবার রেগে যায়। সে যদি জানতো কে গুলি করেছে তাহলে কী আর উষ্ণ কে এভাবে ডেকে আনতো?
মোহ কোমরে হাত বেধে দাঁড়ায়। মোহ'র এমন আহ্লাদী রুপ দেখে হেসে ফেলে উষ্ণ। উষ্ণের এমন গা জ্বালানো হাসি দেখে যেন মোহ আরও রেগে যায়। উষ্ণের দিকে তেড়ে আসতে থাকে। হুট করে মোহ'র পা তার শাড়িতে বেধে যায়। আর সে পড়ে উষ্ণের গায়ের উপর। দু'জনার চোখের চাহনি এক হয়। তারা একে অপরের চোখের ভাষা বুঝতে পারছিল। উষ্ণ তার দিকে প্রেমময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মোহ উষ্ণের হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিল। কী নিদারুণ অনুভুতি!
হঠাৎ মোহ সরে যায়। লজ্জায় তার দু'গাল লাল হয়ে গেছিল। উষ্ণ তখনও মোহ'র দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিল। মোহ'র হৃদস্পন্দন যেন থেমে যাচ্ছিল। প্রহরের জন্য তার কখনো এমন অনুভুতি হয় নি। প্রহরের থেকে দূরে থাকলে তার কথা বেশি একটা মনেও পরে নি। কিন্তু উষ্ণ? দু'দিনের পরিচয়েই যেন উষ্ণের জন্য তার এমন অনুভুতি হচ্ছে। সারাক্ষন শুধু উষ্ণের কথা মনে পড়ছে..।
____________Threads
অনুষ্ঠান শেষের দিকে। বেশি রাত হওয়ায় মোহ বাড়ি ফিরে যেতে চাইছিল। প্রভার বাড়ি অন্য দিকে হওয়ায় তাকে প্রহর নিতে আসবে। সেদিন রাতের ঘটনার পর থেকে কেউ মোহ কে আর রাতে একা আসা যাওয়া করতে দেয় না। প্রভা, শাওন অথবা উষ্ণ সাথে থাকে। আজ শাওন ও ব্যস্ত। এজন্য উষ্ণ কেই যেতে হবে মোহ'র সাথে।
মোব আর উষ্ণ একসাথে বের হয়। মোহ'র ইচ্ছেতে আজ হেটেই যাবে ওরা। দু'জন পাশাপাশি হাটতে থাকে। উষ্ণের দৃষ্টি মোহ'র পানে। আর মোহ'র দৃষ্টি এদিক ওদিক। জোছনা রাত মোহ'র খুব পছন্দ। আর আজই জোছনা রাত। মোহ এদিক ওদিক লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। লাফানোর চোটে হোচট খেতে গেলে উষ্ণ বলে,
- "আস্তে যাও। পড়ে যাবে তো।"
মোহ শোনে না। ইচ্ছা করেই উষ্ণের হাত ধরে। তবে এবার আর লাফায় না। মুখের হাসি টাও উবে যায়। উষ্ণ বোঝে না আসলে কী হলো। মোহ হুট করে বলে,
- "একটা জিনিস খেয়াল করেছেন?"
0 Comments