লেখিকাঃ সাবিহা জান্নাত

কাব্য নিজের পছন্দ করা শাড়িতে চারুকে দেখে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আকাশ থেকে নেমে আসা পরীর মতো তার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তার ধারালো দৃষ্টি তার হৃদয় কে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলেছে।

তার মনে একটা বিশাল জায়গা তৈরি করে নিয়েছে শান্ত মস্তিষ্কের অপরুপা। চারুর প্রতি কিসের অনুভূতি তার । না তার মন ভুল পথে পা বাড়িয়েছে। মনকে অনেক বোঝানোর পর ও কাব্যের বাধ্য মনটা সেই তার অপরুপার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আছে।
সে তাকে উপেক্ষা করতে পারেনি। তার সৌন্দর্য, চলা ফেরা, কথা বলার ধরন, শান্ত মস্তিষ্কের কোনো কিছুই সে উপেক্ষা করতে পারেনি। পারেনি তার মায়াভরা দৃষ্টি থেকে নিজেকে নেশা মুক্ত করতে। হে বার বার তার নেশায় ডুবে আছে‌ । কিন্তু তার এই চাওয়া পাওয়ার কি কখনো পূর্ণতা হবে ।
কয়েক টা ছেলেকে চারুর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেই কাব্যের মুগ্ধ দৃষ্টিতে বিষন্নতার ছাপ। নিমিষেই সে চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। তার রাগগুলো সব জমে যায় চারুর প্রতি। তার শাড়ি পড়াটাই অপরাধ।
বড় ভাইয়া আপুদের বিদায় শেষে চারুর ফ্রেন্ডরা সবাই মিলে একজায়গায় অবস্থান করেছে। এর মাঝেই একটা ঘটনা ঘটে যায়।
চারুকে তার এক সিনিয়র ভাইয়া হাঁটু গেড়ে প্রপোজ করে বসে। চারু কিছুটা থমকে যায় তার এরকম কান্ডে। চারু এদিক সেদিক তাকিয়ে পরিস্থিতি বুঝে কবিতাকে নিয়ে সেখানে থেকে চলে আসে।
চারু বাসায় গিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিতেই চমকে যায়।‌ কাব্য তার বিছানায় বসে আছে। শান্ত দৃষ্টিতে রাগের ছাপ স্পষ্ট ই । নিজের রাগগুলো ফুঁসে রেখেছে সে।
চারু সেখানেই স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,,
~ কাব্য ভাইয়া এতো আগে পৌঁছালেন কিভাবে। আর আমার ঘরেই বা কেন এসেছেন তার উপর রাগ করে আছেন প্রচন্ড। চারুর ভাবনার ছেদ ঘটে তার কোমড়ে কাব্যের স্পর্শ পেয়ে।
ছাড়ুন আমাকে। আমাকে কেন বার বার এভাবে স্পর্শ করেছেন। আমার অস্তিত্ব লাগছে।
কাব্য চারুকে নিজের সাথে মিশে নেয় জোরপূর্বক। ছেলেটা যখন প্রপোজ করেছিল তখন খুব ভালো লেগেছিল তাই না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবটা উপভোগ করছিলি সেসব ( কাব্য )
~ তাতে আপনার তো কিছু যায় আসে না। আমার লাইফে কি করবো না করবো তার সিদ্ধান্ত আমি নিবো ( চারু )
কথাটা শোনামাত্রই কাব্য রাগান্বিত হয়ে চারু কে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে।
~ সেই জন্য শাড়ি পরে সুন্দর করে সেজে গিয়েছিলি যেন ছেলেরা তোর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এসব নোংরা টিকস্ খেলি কবে থেকে শুরু করেছিস। কাব্য রাগের বসে তার দিকে রক্তিম চোখে তাকিয়ে রয়েছে।
চারুর চুড়ি দেওয়া হাতে চেপে ধরায় কাঁচের চুড়ি গুলো ভেঙ্গে গিয়ে চারুর হাত কেটে রক্ত ঝরছে। কিন্তু কাব্যের সেদিকে খেয়াল নেই। কাব্য চারুকে ছুড়ে দেয় যার ফলে সে ম
মেঝেতে পড়ছে।সে কাব্য রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠে,,,
~ গাছের বীজ বপন করলাম আমি। সেই রোপিত বীজের পরিচর্চা, যত্ন সবই করলাম আমি আর কেউ একজন সেই কাছে জল ঢেলে দিতেই গাছটা তার হয়ে যাবে তাই না। সেটা আমি কখনো হতে দিবো না ।
চারু মেঝেতে বসে কান্না করছে । তার কাব্যের কথায় কোনো কান নেই। তার হৃদয়ে র-ক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। তার বুকটা বড় ভারী হয়ে উঠেছে।
সে কান্নারত অবস্থায় মেঝেতে রক্ত দেখে চমকে উঠে।তার হাতের দিকে চোখ পড়তেই সে র-ক্ত দেখে আবারো কান্না শুরু করে দেয়‌ ।
কাব্য চারুর হাতে র-ক্ত দেখেই কিছুটা থমকে যায়। তার উপর চারুর অবিরাম চোঁখের আনি ঝরছে। তার রাগ নিমিষেই বিলীন হয়ে যায় তার কান্নারত চেহারা দেখে।তার হাতে চুড়ি দিয়ে কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত ঝরতে দেখে কাব্য অনেকটাই বিচলতি হয়ে যায়।
কাব্য দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। চারু সেখানেই স্থীর হয়ে বসে থাকে। মনের অজান্তেই কাব্যের কথা শুনে চোখে পানি পড়ছে । মনের দিক দিয়ে সে খুব ই দুর্বল।কারো সামান্য কথায় সে খুব কষ্ট পেয়ে ভেঙ্গে পড়ে । আজও এমনটি ই হয়েছে তার সাথে।
কাব্যের রাগী মনোভাব সে কখনোই নিতে পারে না । কাব্যের একটু ধমকে সে নাকির পানি চোখের পানি এক করে ফেলে। তার বুকের ভেতরটায় কষ্টের পাহাড় জমে আছে। কাব্য চাইলেই চারু কে আপন করে নিতে পারে কিন্তু সেটা না করে সে বারংবার তার মনে আঘাত দেয়।
কাব্য ফাস্ট এইড বক্স সঙ্গে নিয়ে চারুর ঘরে প্রবেশ করে। চারুকে কোলে তুলে তার বিছানায় বসিয়ে দেয়। চারু কাব্যকে কোনো বাধা দেয় না। সে অনুভব করছে কাব্যকে। কাব্যের গলা জড়িয়ে নেয় সে । তার মাঝে এক ভালোলাগা কাজ করছে। সে কাব্যের খুব কাছাকাছি নিজেকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
কাব্য চারুকে বিছানায় বসে দিয়ে আঘাতস্থানে মলম লাগিয়ে দিতেই চারু ব্যাথায় আর্তনাদ করে ওঠে,,
~ আহ্ ।
মলম লাগানো শেষে কাব্য চারুকে খুব যত্ন সহকারে তার আঘাতের ফুঁ দেয়।চারুর শরীর শিউরে উঠছে। কাব্যের এতোটা কাছাকাছি আসাতে।
কাব্য চারুকে বিছানায় রেখে ওর ঘর থেকে বেরিয়ে যায় । এই সময় তার বাসার সবাই কোথাও গেছে। আর কেয়া গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কলেজ থেকে ফিরেই । কাব্য রান্নাঘরে গিয়ে খাবার নিয়ে চারুর ঘরের দিকে পা বাড়ায়।
চারু বিছানায় আধশোয়া হয়ে এক হাত দিয়ে ফোন স্ক্রল করছে। কাব্য চারুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে পাশে রেখে দেয়। কাব্যকে দেখে চারু বিছানায় সোজা হয়ে বসে পড়ে।
কাব্য চারুকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে। চারুর সবটা ঘোর লাগছে। মনে হয় সে কল্পনার জগতে বিরাজ করেছে। যে কাব্য কিনা তাকে দেখতেই পারতো না ।সেই কাব্যের তার প্রতি এতোটা যত্ন নেওয়ার কারন সে ধরতে পারলো না ।
কাব্য চারুর খাওয়া শেষ হলে তাকে ঔষধ খাইয়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে রেখে চলে যায়। কিছু সময় পর চারু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
কাব্য নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। এমন সময় তার আম্মু তার ঘরে প্রবেশ করে । সে তা আম্মুকে দেখেই ল্যাপটপে কাজ করা বন্ধ করে । ল্যাপটপ টা ভাজ করে রেখে দেয় টেবিলে।
~ আম্মু তুমি এই সময় । আমাকে ডেকে দিলে আমি ই চলে যেতাম ।
না বাবা তার কোনো প্রয়োজন নেই ।আমি নিজেই চলে আসলাম । রুপন্তী রহমান কাব্যের দিকে একটা ছবি এগিয়ে দিয়ে বলে ,,
~ কেয়ার জন্য এই ছেলেটা দেখা হয়েছে। ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ছেলেটাকে দেখো , যদি তোমাদের পছন্দ হয় তাহলে ছেলেটা কেয়াকে দেখতে আসবে। বড় ভাই হিসেবে তোমার ও একটা দায়িত্ব আছে।
~ কাব্য ছবিটা একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নেয়। সে তার মতামত হ্যাঁ দিতেই,,
~তাহলে ওনাদের কালকে আসতে বলবো ।তোমার বাবার ও ছেলেটাকে পছন্দ হয়েছে বলেই তার আম্মু তার ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
পরেরদিন সকাল থেকে সব আয়োজন শুরু করা হয়। ছেলে পক্ষ কেয়া কে দেখতে আসে । সবকিছু মিটমাট করে তাদের বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয় । তাদের এনগেজমেন্টটাও দ্রুত সেরে ফেলা হয়।
পরের দিন কলেজে গিয়ে চারু অবাক হয়ে যায় সেই ছেলেটাকে দেখে যে তাকে বিদায় অনুষ্ঠানের দিন প্রপোজ করেছিল।ছেলেটার মাথায় ব্যান্ডেজ করা । শরীরে আঘাতের চিহ্ন। সেই ছেলে আবার তার পায়ে পড়ে বার বার একই কথা বলছে,,
~ ভাবী আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করে দিন। আমি আপনার পায়ে পড়ছি মাফ করে দিন। না হলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি আর কখনো আপনার দিকে চোখ তুলে ও তাকানো তো দূর আপনার আশে পাশেও আসবো না।
~ চারু চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে ছেলেটার এমন কাজে। কি করছেন কি , আমার পা ছাড়ুন। আর আপনাকে এভাবে কে মেরেছে ( চারু )
ছেলেটা চারুর কথার কোনো জবাব না দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। দূর থেকে কবিতা সবটাই লক্ষ্য করছিল। ততক্ষণাৎ কবিতা এসে চারুকে জিজ্ঞেস করে সবটা জানতে পারে কিন্তু এসবের পিছনে কে আছে তারা কিছুই বুঝতে পারে না।
কয়েদির পর তাদের ফাস্ট ইয়ারের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেয়ার বিয়ের আয়োজন শুরু হয়।
আজ থেকেই কেয়ার বিয়ের কেনাকাটা শুরু হয় ‌। কাল গাঁয়ে হলুদ তার পর রাত্রে মেহেদী অনুষ্ঠিত হবে।‌পরেরদিন বিয়ে।
কেনা কাটা করার জন্য কাব্য ওর সব কাজিন এবং কেয়া এবং বড়রা এসেছে। সবার কেনাকাটা শেষ। কাব্য বার বার লক্ষ্য করছিল চারুর একটা নেকলেস সেটের প্রতি আকর্ষণ। তার জন্য ও সবকিছু কেনাকাটা করা হয়েছে। বিয়েতে তারা কাউকে অখুশি দেখতে চান না বলেই সবার জন্য ই সমপরিমাণ জিনিস পত্র কেনা হয়েছে।
শপিং শেষ করে তারা রাতে বাসায় ফিরে। বাসায় সামান্য কিছু অতিথি এসেছে। চারু সবার সাথে রাতের খাবার খেয়ে তার কাজিন তোহার সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে।
সকালে উঠেই তোহার চেঁচামেচি তে চারুর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তোহার ডাকে চারু বিছানা ছেড়ে উঠে টেবিলে একটা গিফট বক্স দেখেই অবাক হয়ে যায়।
~ কাল রাতে তো এটা এখানে ছিল না, এখানে আসলো কি করে। তুমি জানো কিছু , তোহার উদ্দেশ্যে চারু কথা টা বলতেই তোহা বলে উঠে,,
~ আমি ও তো কিছুই বুঝতে পারছি না কে দিল এটা এভাবে গিফট বক্স করে। সাথে একটা চিরকুট ও রয়েছে - "অপরুপা শুধুই তোমার জন্য, নিচে ছোট করে লেখা চারু " তোহা লেখাটা উচ্চারণ করতেই চারু কিছুটা অবাক হয়ে যায়।
দুজনেই খুব আগ্রহ নিয়ে বক্স টা খুলে দেখে সেখানে একটা নেকলেস সেট। চারু খুব অবাক হয়ে যায় নেকলেস টা দেখে। এটা তো সেই নেকলেস যেটা তার শপিংমলে দেখে খুব পছন্দ হয়েছিল তবে সে মুখ ফুটে বলতে পারেনি । সাথে একটা কাজল ও রয়েছে।
চারু আর তোহা নেকলেসের বিষয়ে কাউকে কিছু বললো না, যেহেতু চারুকেই নেকলেস টা উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে । বাসার সবাই জানলে তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে যাবে।
গায়ে হলুদে কেয়া একটা হলুদ রঙের লেহেঙ্গা এবং সবাই হলুদ শাড়ি পড়েছে ‌। চারুকে সিম্পল সাজে অপরূপা সুন্দরী লাগছে । সে তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে আসে। হলুদের অনুষ্ঠানে এসে তোহার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
হঠাৎ ই চারুর ফোনে একটা প্রাইভেট নাম্বার থেকে মেসেজ আসে " অপরুপার কি মন ভালো নেই, চোখে কাজল দাওনি যে, নেত্রপল্লব আঁখিতে কাজলের অনুপস্থিতি জানান দিচ্ছে তোমার বিষন্নতা কে । আমার হৃদয়ের বিষন্নতা কে জাগিয়ে তুলছে তোমার ওই বিষন্ন মুখখানি। তোমার কাজল কালো আঁখিতে আমার দেওয়া কাজলের অনুপস্থিতি বারংবার মনে একটি কথায় জাগ্রত করছে " তুমি আমার হবে তো "
ফোন স্ক্রিনে নিজের চেহারা টা দেখে কাজলের অনুপস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়ে যায় চারু। সত্যি সে কাজল দিতে ভুলে গেছে । আর সে এটাও বুঝতে পারে গিফট বক্স টা মেসেজের অপারে থাকা মানব পাঠিয়েছিল ।
চারু তোহার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ায়। তোহা চারুর আচমকা এমন কান্ডে কিছুটা অবাক হয়ে যায়। চারু নিজের ঘরে গিয়ে ড্রেসিং এর ড্রয়ারে রাখা কাজল টা নিয়ে চোখে কাজ দিতে শুরু করে। কাজল দিতে দিতে চারুর অচেনা মানবের কথা মনে পড়তেই সে হেঁসে ফেলে।
চারু নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই কাব্যের সাথে ধাক্কা লেগে যায়। চারু পড়ে নিতে গেলেই কাব্য চারুর হাত টা ধরে ফেলে।সরি, সরি বলেই চারু তড়িঘড়ি করে আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়। চারুর এমন কান্ডে কাব্য ভ্রু কুঁচকে ফেলে।
চারু এদিক সেদিক তাকিয়ে অচেনা মানবের খোঁজ করতে থাকে কিন্তু এমন কাউকেই তার সন্দেহ হয় না । ততক্ষণাৎ চারুর ফোন স্ক্রিনে আবার সেই অচেনা মানবের নাম্বার ভেসে ওঠে,,
~ ওহে চারুলতা তোমার ওই নেত্রপল্লব আঁখিতে কাজলের উপস্থিতি তোমার সৌন্দর্য কে দ্বিগুণ করেছে। আমি বার বার হারিয়ে যাই তোমার ওই মায়াভরা আঁখি দুটিতে। তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আমার হৃদয় কে ক্ষত বিক্ষত করে। আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি তোমার ওই মুগ্ধ করা লাবন্যময়ী চেহারায়। আমি অপেক্ষায় আছি ,
~ তোমার ওই মায়াভরা দৃষ্টি আমার তৃষ্ণা ভরা দৃষ্টিতে রেখে বলবে, " ভালোবাসি "