লেখিকাঃ সাদিয়া আকতার

মানব কে সৃষ্টির পর স্রষ্টা হৃদয় কে পরিপূর্ণ করেছেন আবেগ ভালোবাসার অনুভূতি দিয়ে। গোধুলি বেলায় কিংবা শিশির ভেজা ঘাসে অথবা কোন জোৎস্না স্নাত রাতে সঙ্গির সাথে একান্ত কিছু প্রহর সব প্রেমাসিক্ত হৃদয়েরই কাম্য। তথাপি প্রেম কে অতি সহজে প্রণয়ের বাঁধনে বাঁধা যায় না। সইতে হয় ত্যাগের যন্ত্রণা, উত্তীর্ণ হতে হয় অগ্নিপরীক্ষায়।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং
ঘুম জড়ানো চোখে এলার্ম বন্ধ করে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে সুপ্তি। ভোরের শীতল বাতাস জানালার পর্দা ভেদ করে শরীরে মৃদু কম্পন ধরিয়ে দিচ্ছে। স্ক্রিনে সময় দেখে তড়িঘড়ি বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে যায়। যদিও ঘুম ভাঙ্গার পরেও বিছানায় বেশ কিছুক্ষণ গড়িমসি করা তার অভ্যাস। তবে আজ বিশেষ দিন বলেই কিনা ঘটনার পরিবর্তন।
নামায শেষ করে বেরিয়ে আসে সুপ্তি নিজের রুম থেকে। চারিদিকে যেন খুশির আমেজ, বড়রা সবাই উঠে পড়েছে, সবাই ভিন্ন কাজে ব্যস্ত। ছোট চাচা আর অনিতা সোফায় বসে গিফটের প্যাকেট গুলো র্যাপ করছে। সুপ্তি তার বাবা কে না দেখতে পেলেও মা'য়ের কন্ঠ শুনে রান্নাঘরের দিকে দ্রুত পদে চলে যায়।
পিছন থেকে মা'কে জড়িয়ে ধরতে মৃদু হেসে মিসেস ফারহান বলে ওঠেন "কিরে!,,,,,খুব খুশি নাকি!!!,,,,"
"হুম,,," আরো শক্ত করে ধরে সুপ্তি মা'কে।
: ছাড় এবার,,,,কত্ত কাজ বাকি এখনো,,,,
: এইযে পাগলি মেয়ে,,,,ছাড়ো মা'কে,,,,কাজ করতে দাও তো,,,,পাশে থেকে বলেন মিসেস ফারহাদ সুপ্তির ছোট কাকিমা।
সুপ্তি এবার মা'কে ছেড়ে তার কাকিমা কে জড়িয়ে ধরে বলে, "কাকিমনি,,,,আজকে আমি সত্যি,,,,,সত্যিই অনেক খুশি,,,,"
আলতো করে সুপ্তির গালে আদর দিয়ে বলেন "আজকে এই বাড়ির সবাই অনেক খুশি,,,,ভাবী দেখেছ আমাদের পাগলিটা কান্না করছে,,,,,"
লাজুক হেসে চোখের পানি মুছে সুপ্তি বলে "সাত বছর পর ভাইয়া আসবে,,,,,,"
"বাব্বাহ!!! এখানে তো অনেক আদর দেয়া হচ্ছে,,,,জানতাম না তো,,,," অভিমানের স্বরে রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বলে অনিতা।
"আরে,,,আমরা কি আমাদের বড় মেয়ে কে ভুলতে পারি?,,,,আয় মা ভিতরে আয়,,," বলে কাছে ডাকেন মিসেস ফারহান।
সুপ্তি অনিতার এক হাত ধরে অনুযোগের স্বরে বলে "অনিতা আপি,,,তুমি কত্ত বড়,,,অনেক তো আদর নিয়েছো এবার আমাকেও একটু সুযোগ দাও,,,,"
অনিতা মেকি রাগ দেখিয়ে বলে "তা বললেই হবে নাকি,,,ভাইদের সব আদর তো তোর ভাগে থাকে,,,,"
: না আপি,,,,
: কেন??,,,,আলভিও তো আসছে,,,তুই খুশি হোসনি নাকি??
: জানিনা,,,,,বলে সুপ্তি চলে যায়।
তারা বোধহয় সুপ্তির কাছে থেকে এমন উত্তর একেবারেই আশা করেননি। অবাক হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ছুড়ে দেয়।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সুপ্তি। আজ তার ভীষণ কান্না পাচ্ছে, কষ্টও হচ্ছে অনেক। ঠোঁট কামড়ে নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষে ব্যর্থ হয়ে ফুপিয়ে কান্না করে দেয়।
"সুপ্তি,,,আয় মা,,,জলদি নাস্তা করেনে,,,,,,,"
মা'য়ের ডাক শুনতেই চোখের নোনাজল দ্রুত মুছে মুখে স্বভাবসুলভ হাসি নিয়ে খাবার টেবিলে এসে বসে সুপ্তি।
মি. ফারহান সবাই কে তাড়া দিয়ে বলেন "খাবার শেষে কেউ ঢিলেমি করবে না,,,তৈরি হয়ে যাবে,,,ন'টার মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌছতে হবে,,,,,"
"জ্বি,,,,ভাই,,,," উত্তর দেন মি. ফারহাদ।
: সুপ্ত'র মা তুমি কিন্তু পায়েশ নিতে মোটও ভুলো না,,,,ছেলে দু'টো পায়েশ বড্ড বেশি ভালোবাসে,,,,,, বলেন মি. ফারহান
: জ্বি,,,,আমি বক্সে তুলেছি,,,,
: আংকেল!! বাবা কি আমাদের সাথে যাবেন? জানতে চায় অনিতা।
: তোমার বাবা তো বলছিলো ও আলাদা গাড়ি নিয়ে যাবে,,,,বলেন মি.ফারহান।
: আফতাব ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে আমার,,,উনিও তৈরি হচ্ছেন...বলেন মি. ফারহাদ।
খাবার শেষে সবাই তৈরি হতে যে যার রুমে চলে যায়।
সুপ্তি আজকে হালকা নীলাভ গোল জামা-চুড়িদার সাথে একপাশে ওড়না ঝুলিয়ে হিজাব পরেছে। স্মীত হেসে টেবিলে রাখা একটা ডায়েরি সযত্নে তুলে নেয় তার ব্যাগে।
সুপ্তি, অনিতা, সখ্য উঠে মি. ফারহাদের গাড়িতে, অপরটা তে ছিলো সুপ্ত ও সখ্য'র মায়েরা, মি. ফারহান আর ড্রাইভার মতিন কাকা।
"কুঞ্জন ভিলা" ভিলা থেকে পরপর দু'টি গাড়িয়ে বেরিয়ে যায়।
--------------------
: সুপ্ত! এই সুপ্ত,,,,,,ওয়েকা'প,,,দেখ তোর নীলু এসেছে,,,,
: হ্যাঁ?,,, ন,,,নীলু,,,কই?,,,
: হাহাহা,,,,আরে বোকা আমরা ল্যান্ড করছি দেশে,,,,নীলু নাই,,,,হাহাহা,,,,
: ধুরু,,,, তুই আসলেই একটা বদ,,,,আ,,, আ,,,আ কি সুন্দর ঘুমাচ্ছিলাম,,,
: বাড়ি যেয়ে ঘুমাস,,,
: তোর কপালে দুখ আছে আলভি,,,মাইন্ড ইট,,,বলে সুপ্ত আলভির পিঠে একটু থাবা দেয়
: আ আ,,,,ব্যাথ্যা পাই তো,,,
: শাট'আপ,,,ন্যাকা কোথাকার,,,,
: হুম,,,এখন তো আর আমাকে চিনবি না,,,,নীলু কে পাবি যে,,,,
: তুইও তোর শুভ্রা কে,,,,আজও বললি না কে এই শুভ্রা,,,,
: তোর কাছে থেকে যখন কিছু লুকাই না ধরে নে এটাও লুকাবো না,,,,,
: ধন্য হলাম,,,,আচ্ছা শোন আলভি,,,এত বছর পর আংকেলের সাথে দেখা হবে,,,একদম স্বাভাবিক থাকবি,,,কেমন???
: এখন এসব বলা কি জরুরী ছিলো?,, গম্ভীর স্বরে বলে আলভি।
: ইয়ার টেক ইট ইজি,,,,ওকেহ!!! জানি কোন কিছুই ভুলার নয় ভুলতেও হবেনা কিন্তু যতটা পারিস এড়িয়ে যাবি,,,,,
: হুম্মম,,,,হয়ত এই কথার জন্যই তুই সবার থেকে বেশি কাছের,,,বলে আলভি সুপ্তের হাতে হাত রাখে।
: তুইও রে,,, বলে সুপ্তও আলভির হাতে হাত রাখে।
এনাউন্সমেন্ট শুনে যাত্রীরা বিমান থেকে নামার জন্য তৈরি হয়ে যায়। চেকিং শেষে এয়ারপোর্টের বাইরে এসে ওরা এদিক ওদিকে তাকাচ্ছিল নিজেদের লোকজন কে খুজতে।এসময় হঠাৎ একটি মেয়ে দৌড়ে এসে সুপ্ত কে জড়িয়ে ধরে। সুপ্ত হতচকিত হয়ে কিছুটা টলে পরতে পরতে নিজেকে সামলে নেয়। কে এই মেয়ে ভেবে ভালো করে চেহারা দেখতেই চমকে উঠে বলে "সুপ্তিইইইই!!!!,,, আপুনিরে!!!" সুপ্তি তখন ভাই কে জড়িয়ে অঝরে কেঁদে যাচ্ছে সাথে সুপ্তও নিরবে কাঁদছে।
বোন টা তার বড্ড বেশি আদরের। বিদেশ বিভূঁইয়ে সুপ্ত যখন দেখতো কেউ ছোট ভাই বোনকে আদর করছে মনের অজান্তেই তার চোখ ছলছল হয়ে যেত। আজ কতদিন পরে বোন টাকে আদর করতে পারছে, ফ্রক পড়া বাচ্চা মেয়ে টা কত্ত বড় হয়ে গেছে।
সুপ্ত আলভি কে সুপ্তির সাথে পরিচয় করানোর ভঙ্গিতে বলে "আলভি!! এটা তোর সুপ্তিরে,,,দেখ কত্ত বড় হয়ে গেছে,,,"
ইতস্তত করে আলভি জানতে চায় "কেমন আছিস সুপ্তি!!"
: ভালো,,,, সুপ্তি'র শুকনো জবাব।
সুপ্তি ব্যাগ থেকে একটা ডায়েরি বের করে সুপ্ত'র হাতে দিয়ে বলে "এটা তোর ওয়েলকাম গিফট,,,,"
: বাবা,,,,কি লেখা,,, বলে ডায়েরি খুলতে গেলে সুপ্তি বাধা দিয়ে বলে
: এটা পড়ার নিয়ম আছে,,,,যেই তারিখ শুধু মাত্র ওই তারিখের লেখাই পড়তে পারবি,,,,আমি মার্ক৷ করে দিয়েছি,,,,,
: আচ্ছা,,,আচ্ছা,,,বেশ বলে যত্নে তার ব্যাগে নিয়ে নেয় ডায়রিটা।
পরিবারের সবাই ওদের ঘিরে রেখেছে। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে সাত বছরের জন্য বিদেশ পারি দিয়েছিলো তাদের দুই ছেলে। এত বছর পর ছেলেরা ঘরে ফিরবে আজ। সখ্য এসে সুপ্ত কে জড়িয়ে বলে "হিরো ভাইয়া,,,,,কেমন আছো?”
: আরেহ পুচকু!!! কেমন আছিস,,,,
: তোমাকে দেখে তো এখন ভালোই আছি,,,
: হুম্ম বড্ড পাকা পাকা কথা শিখেছিস,,,
এরপরে সুপ্ত আর আলভি তাদের মা কাকিমার সাথে কুশল বিনিময় করে।
সুপ্ত কে তার বাবা বুকে জরিয়ে সে কি কান্না। আলভি একটু দূরে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে দেখছিলো এই দৃশ্য। হঠাৎ কারো হাত কাধে স্পর্শ হতে পিছন ফিরে দেখে মি. আফতাব মানে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। "আভি! কেমন আছো বাবা!!,,,," ধরা গলায় জানতে চান মি. আফতাব।
: যেমন থাকি,,,,অলওয়েজ গুড,,,,বলে চুপ হয়ে যায়।
মি. আফতাবের খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো ছেলে কে বুকে টেনে নিতে কিন্তু বাবা-ছেলের মাঝে এই দেয়াল হয়ত সহজে ভাংগা যাবে না। তাই শুধু আলভি'র কাধ চাপড়ে বললেন " ভেরি গুড মাই সান,,,,,আমি দোয়া করি তুমি সব সময় ভালো থাকো,,,, আর হ্যাঁ তোমার বাবা কিন্তু তোমাকে নিয়ে অনেক প্রাউড ফিল করে,,,,,"
স্মিত হেসে আলভি বলে "থ্যাংকস বা,,বা,,,,,,,"
অনিতা এবার এগিয়ে আসে "ভাইয়া,,,,,,,," সে অনেক কিছুই বলতে চাচ্ছে কিন্ত কেমন যেন জড়তায় চুপসে যায়।
"বোনু,,,,,কেমন আছিস,,,," বলে আলভি। হাস্যজ্বল অনিতা এবার সাহস করে বলে " ভালো,,,,তবে তোকে খুব মিস করেছি ভাইয়া,,,,"
: আমিও করেছি রে,,,,নে এটা তোর জন্য,,,,,আর এটা মি. আফতাব কে দিয়ে দিস,,,,,,,,বলে আলভি চলে আসে সুপ্তর কাছে।
সুপ্তি অদূরে দাড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলো আলভি কে। সে ভাবে আলভি ভাইয়া এখনো আগের মতোই পোশাকের ব্যাপারে সচেতন। ভালোই মানিয়েছে কালো প্যান্ট সাদা শার্ট চোখে আবার সানগ্লাসও। সময়ের সাথে কত পরিবর্তন মানুষ টার। একটা সময় নিজের ভাইয়ের চেয়েও এই আলভি ভাইয়া কে তার বেশি পছন্দ ছিলো অথচ আজ কথা বলতেও কত দ্বিধা। আলভি কোন এক কারণে তার বাবা বোনের সাথে খুব একটা কথা বলেনা বললেই চলে। সুপ্তি আপন মনে নিজেকে প্রবোধ দেয় "বাদ দে তো,,,যে নিজের বাবা কে ছেড়ে থাকতে পারে,, সেখানে তুই কোথাকার কে যে এত অভিমান জমিয়ে রাখছিস,,,,,ধুরু!!!"
মিসেস ফারহান পায়েশের বক্স নিয়ে এসে বলেন " নে আলভি,,,, দেখ,,,কেমন হয়ে হয়েছে,,,,,"
: মা,,,,ইট'স নট রাইট,,,আমি কি তোমার ছেলে না,,,,,অনুযোগ করে বলে সুপ্ত।
: হুম,,,বাট ভালো ছেলে টা আমি,,,বুঝলি,,,,হাহাহা,,,,বলে এক চামচ পায়েশ তুলে নেয় আলভি।
আলভির কিছুটা গা ঘেঁষে ফিসফিস করে সুপ্ত বলে "তুই শালা কত যে ভালো জানাই আছে,,,,দে আমাকে,,,,বলে সেও একটু পায়েশ তুলে নেয়।
: আন্টি সত্যি বলছি তোমার হাতের এই খাবার টা কে খুব মিস করেছি,,,,,
: হ্যাঁ মা সত্যিই দারুণ,,,,
মি. আফতাব একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছেলের হাসিমাখা মুখ টা দেখে মি. ফারহান কে বলেন " বন্ধু!!,,,,সত্যিই আমি খুব,,,,কৃতজ্ঞ,,,দেখ আমার ছেলেটা,,,সুপ্ত,,তোর ফ্যামিলির সাথে কত হাসিখুশি,,,,,,, "
"তুই কি যে বলিস ভাই,,,,,আলভি কি আমার ছেলে না,,,,,"বলেন মি.ফারহান।
এরপরে সবাই মিলে কুঞ্জন ভিলা'র উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এবার ফারহাদ চাচার বদলে গাড়ি ড্রাইভ করবে আলভি পাশের সিটে বসে সুপ্ত। পিছনে ছিলো অনিতা সখ্য সুপ্তি। সবাই গল্প করবে আর যাবে। সুপ্তি আনমনে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকাতে আলভির সাথে চোখাচোখি হয়ে যায়। বুকের ভিতর টা কেমন যেন ধক করে ওঠে। গাড়ি স্টার্ট হয়। আলভি প্লেয়ারে "khabi to khairiyat pucho " গান টা প্লে করে দেয়। গানের তালে পরেরবার চোখাচোখি হতেই আলভি মুচকি হাসে। আলভির এই হাসি যেন সুপ্তি কে আরো ঘাবড়ে দেয়। এসির মধ্যেও দিব্যি সে ঘেমে যাচ্ছে। এদিকে সখ্য তো তার সুপ্ত ভাইয়া কে পেয়ে কত কি প্রশ্ন। তার মুখে যেন খই ফুটছে। অনিতা, সখ্য, সুপ্ত, আলভি সবাই হাসি মজা করলেও সুপ্তি অস্বস্তির জন্য চুপচাপ রাস্তা পাড়ি দেয়।
কুঞ্জন ভিলা'র সামনে এসে একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভিতরে যায়। সুপ্তিও যাচ্ছিলো তখন আলভি পিছন থেকে ডাক দেয় " সুপ্তি!!!....."
থতমত হয়ে সুপ্তি থেমে যায়।
: কিরে,,,,সুপ্ত ঠিকি বলেছে তুই অনেক বড় গেছিস,,,,
: এটা বলার জন্য ডাকছিলেন?
: আ,,,আপনি,,,আমি আবার কবে থেকে আপনি হলাম,,,
: এখন থেকে,,,
: হুম,,ভালোই কথা শিখেছিস,,,
: আমার মনেহয় বাড়ির ভেতরে যাওয়া টা দরকার,,,,বলে যেই পা বাড়াবে আলভি তখন বলে ওঠে
: সুপ্তি!!!,,, রাগ করেছিস?
: রাগ!!,,,হাহ,,,কেন বলুন তো,,,,
: তুই কত পরিবর্তন হয়ে গেছিস!
: ভুল,,, আমি ঠিকি আছি,,,,পরিবর্তন তো আপনার হয়েছে মি. আলভিয়ান!
: আ,,,আমি কি করলাম?
: ওহো,,, তাইতো,,, কি করলেন আপনি,,,
: কারণ ছিলো তাই এই সাত বছর আমি তোর সাথে কথা বলিনি,,,,
: তো এখন কেন এসেছেন?,,,,আমি ডেকেছি??
: সুপ্তি!!! তুই এখন তো ছোট না,,,,তাহলে এভাবে কেন কথা বলছিস,,,,
: কারণ আমি মানুষ,,, আমার কষ্ট হয়,,,,আর রাগ হচ্ছে যে আমাকে মনেই করে না তার জন্য নাকি,,,বলে কান্না করে দেয় সুপ্তি।
একপ্রকার দৌড়ে চলে যায় সুপ্তি তার রুমে। বালিশে মুখ গুজে ফুলে ফুলে কান্না করছে। আজ যেন চোখ জোড়া কোন বাধাই মানছে না শুধু অশ্রু বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে।
: সুপ্তি!!! এই যে পাগলি,,,,
মাথায় কারো স্পর্শ পেয়ে মুখ তুলে চেয়ে দেখে আলভি।
প্রচন্ড রাগ হয় সুপ্তির "কেন এসেছেন আমার রুমে???,,,, আমি এখন ছোট বাচ্চা নই,,,,
আলভি হাটু গেড়ে বসে আলতো হাতে সুপ্তির গাল মুছে দিয়ে বলে,,,,
: আমি সত্যিই জানতাম না সুপ্তি এত অভিমানি হয়েছে,,,,
: ন্যাকামো করবেন না বলে দিলাম,,,বেরিয়ে যান,,,,,
: আচ্ছা সরি,,,চলে যাচ্ছি,,,কিন্তু এটা রাখ,,,তোর জন্য এনেছি,,,,
: লাগবে না এসব,,,,, নিয়ে যান,,,
: খুলে দেখিস,,,,, বলে আলভি বেরিয়ে যায়।
সুপ্তি মুখ গোমরা করে খাটে বসে আছে। এখন সে চাইলেও আর কান্না করতে পারছে না। ছোটবেলা থেকেই এই এক সমস্যা সুপ্তির যত যাই কষ্ট হোক আলভি তার সাথে ভালো করে কথা বললেই সে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
আলভির দেয়া গিফট পাশেই রাখা। স্মীত হেসে প্যাকেট টা সামনে রেখে ধীরে ধীরে খোলে। গিফট দেখে সুপ্তি পুরোই অবাক বনে যায়। আলভি তাকে এক বক্স এরোমা ক্যান্ডেল গিফট করেছে। এমনকি কিছু ক্যান্ডেল সুপ্তির বিশেষ দিন গুলোর, আবার প্রতিটা ক্যান্ডেলের সাথে ছোট্ট করে একটি চিরকুট।
আসলে সুপ্তি'র এরোমা ক্যান্ডেল খুবই পছন্দ। আলভি তাকে ক্যান্ডেল গিফট করেছে তাই বেশি খুশি হবে নাকি সেও তাকে মনে রেখেছে এই খুশিতে সে আত্নহারা হবে বুঝতে পারছে না কি করবে চিরকুট পড়বে নাকি যেয়ে আলভি'র সাথে কথা বলবে। অবশেষে লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজে কে সংযত করে বেরিয়ে আসে রুম থেকে।
গেস্টরুমে সবাই মিলে গল্প করছে দেখে সুপ্তিও সেখানে যায় কিন্তু আলভি কে দেখতে না পেয়ে সখ্য কে বলে "সখু,,,,আলভি ভাইয়া কইরে,,,,"
সখ্য বলে " ভাইয়া তো চলে গেছে,,,, "
উত্তর টা শুনে সুপ্তির হাসি মাখা মুখটা মুহুর্তেই ম্লান হয়ে যায়।