লেখিকাঃ তাবাসসুম কথা

 আকাশের বুক চিড়ে একরাশ জলরাশি বৃষ্টির রুপ নিয়ে ধরাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে। একে অপরকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাক্ষা নিয়ে তাকিয়ে আছে দুজন দুজনের দিকে। দুজনের চোখের ভাষা এক হলেও প্রকাশ করার অনুমতি পাচ্ছে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা হীর আর তুর্যকে ভিজিয়ে একাকার করে দিচ্ছে। আশে পাশে তারা বিহীন কেউ নেই। ঝড়ো বাতাস শুরু হতেই সবাই বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছে। কিন্তু হীর আর তুর্য নিজেদের মধ্যে এমন বিভোর রয়েছিল যে, তারা যে বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তাদের বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। হঠাৎ বজ্রপাতের এর শব্দে তুর্যর ধ্যাণ ভাঙে। হীর কে ছেড়ে দিয়ে সে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। তুর্য ছেড়ে দিলে হীর বেশ লজ্জায় পড়ে যায়।
ক্রমশ সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে দেখে তুর্য হীরকে তার পরিকল্পনা বুঝাতে শুরু করে,
--- দেখ, হীর আমি যা করতে যাচ্ছি সবার ভালোর জন্য করতে যাচ্ছি।
--- রায়ানের সাথে আমার বিয়ে কারো ভালো বয়ে আনবে না।
--- তোর কি আমাকে এতোটাই বোকা মনে হয়? তুই ভাবলি কি করে রায়ানের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য তোকে এখানে এনেছি। তোকে আমি বিশ্বাস করি।
--- তাহলে আমাকে এখানে এনেছেন কেন?
--- আজ এখানে তোর আর আমার বিয়ে হবে, তাই এখানে এসেছি।
--- কীহ! এক মিনিট! বোধহয় বৃষ্টির শব্দের জন্য আমি উল্টাপাল্টা শুনছি। আবার বলুন তো কি বললেন?
--- তুই যা শুনেছিস ঠিকি শুনেছিস, আমি তোকে বিয়ে করবো। আজকেই!
--- আগে শুধু আমার মনে হতো, আজ প্রমাণ হলো আপনি সত্যি পাগল হয়ে গেছেন। লন্ডনের পানিতে কিছু মেশানো ছিল, যার জন্য আপনার আজ এই অবস্থা।
--- ফাজলামো হচ্ছে?
--- ফাজলামো তো আপনি করছেন। এভাবে কি বিয়ে করা যায়? আর আমি আপনাকে কেন বিয়ে করবো? আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন না, তাহলে আপনিই বা কেন বিয়ে করতে চান আমাকে?
--- সবার ভালোর জন্য এটা আমাদের করতে হবে। রায়ান তার বাবা মাকে কনভিন্স করে তোর আর রায়ানের বিয়ে ফাইনাল করে ফেলবে।
--- আপনি এতো শিউর কিভাবে হলেন যে রায়ান আমাকে বিয়ে করবে?
--- জানি না। কিন্তু আমার মন বলছে এখন যদি আমি কিছু না করি তাহলে আমি সব হারিয়ে ফেলবো।
--- কি সব আবোল তাবোল বকছেন! কী হারিয়ে ফেলবেন আপনি? আর আপনারা যেটা মনে করছেন সেটা মোটেও সত্যি না, রায়ান আমাকে ভালোবাসে না। সে এসব করছে যেনো তাফসি কে বিয়ে করতে না হয়।
-- আমি ওসব আর জানতে চাই না। আমি শুধু জানি আজকেই আমরা বিয়ে করবো।
-- আমি আপনাকে কিছুতেই বিয়ে করবো না।
-- কিন্তু কেনো? তুই কি বুঝতে পারছিস না এটাই সবার জন্য ভালো হবে।
-- ইচ্ছা করে কারো জীবনে আগুন লাগানোর মতো মেয়ে আমি নই।
-- মানে? কি বোঝাতে চাইছিস?
-- জানি না। আমাকে বাসায় নিয়ে চলুন।
হীর কে রাজি করাতে না পেরে ক্ষোভে গাড়ির বোনেটে সজোরে ঘুষি মারে তুর্য। তুর্যর এই ক্ষোভের অর্থ হীর বুঝতে পারছে না। কেনো এমনটা চাইছে তুর্য? তার আর তুর্যর বিয়ে হলেও তো তেমন কোনো লাভ হবে না। কারণ রায়ান তাফসি কে এমনিতেও বিয়ে করবে না। তাহলে কি তুর্য ভাবছে রায়ান তাকে বিয়ে করবে? কিন্তু এটা সম্ভব নয়। রায়ান তো তাকে ভালোবাসে না। রায়ান শুধু তার আর তাফসীর বিয়েটা ভাঙতে চায়। সেটা যে করেই হোক।
তুর্য কিছুই স্পষ্ট ভাবে বলছে না। কিন্তু হীর তুর্যকে কিছুতেই বিয়ে করবে না। তুর্য আর জেসিকা একে অপরকে ভালোবাসে। তুর্যর জীবনে জেসিকার জায়গা হীর নিতে চায় না। তার জন্য জেসিকা তার ভালোবাসা হারায় সেটা সে কখনোই চাইবে না। ভালোবাসার মানুষটিকে না পাওয়ার কষ্ট সে জানে, সেই কষ্ট অন্য কেউ পাবে সেটাতো হীর চায় না। আজ তার সাধ্যে থাকলে তাফসিকে তার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতো সে। কিন্তু রায়ান....!
তুর্যর রাগান্বিত মুখের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে গিয়ে বসলো হীর।
সারা রাস্তা হীরের সাথে আর কোন কথা বলেনি তুর্য। কিছুতেই যে সে হীর কে হারাতে পারবে না। কিন্তু এটা সে কিভাবে বলবে হীরকে। হাজারো জড়তা এসে ভর করে তাকে যখনই সে তার ভালোবাসার কথা, হীরের প্রতি তার দুর্বলতার কথা, হীর কে বলতে চায়! জেসিকার সাথের ক্যাজুয়াল সম্পর্কটা যে তাকে এতোটা যন্ত্রণায় ফেলে দেবে সে কল্পনাও করে নি।
মাঝরাতে হঠাত্ করেই হীরের ঘুম ভেঙে যায়। মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে। অসময়ের বৃষ্টিতে ভেজার ফল এটা। একটা ব্যথার ঔষধ না খেলেই না।
ক্লান্ত শরীর টা কে টেনে বিছানা থেকে নামিয়ে ঔষধ বের করলো হীর। কিন্তু পানির বোতলে এক বিন্দু পানিও নেই। অগত্যা জোর করে শরীর টা কে পুনরায় টেনে নিচে নামতে হলো তাকে। বোতলটা পানি ভর্তি করে ফিরে আসার সময় হঠাৎ তাফসির রুমের সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় হীর। ভেতর থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ আসছে। রাত প্রায় আড়াইটা বাজতে চলেছে। এতো রাতে এমন উদ্ভট শব্দ হওয়া টা মোটেই স্বাভাবিক নয়। কিসের শব্দ হচ্ছে জানার জন্যে দরজা ধাক্কা দিলে দরজাটা আস্তে করে খুলে যায়। হয়তো দরজা লক করতে ভুলে গিয়েছিল। ঘরের ভেতর ঢুকে হীর যা দেখতে পায় তাতে তার অন্তরাত্মা পর্যন্ত কেঁপে উঠে।
তাফসি তার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘরের ভিতরে হীর এর প্রবেশ করাটা তাফসির চোখে পরে নি তখনও। তাই সে তার মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভয় পেয়ে জোরে চিৎকার করে ওঠে হীর। হীর এর চিৎকারের শব্দে তমা বেগম আর তুর্যর ঘুম ভেঙে যায়।
চিৎকারের শব্দে হীরের দিকে ফিরে তাকায় তাফসি। এই সময়ে তার ঘরে হীর কে দেখে সে বেশ বিরক্ত হয়। কেননা হীর তাকে তার উদ্দেশ্যে সফল হতে দেবে না।
-- তুই আমার রুমে এই সময় কি করছিস হীর? বেরিয়ে যা! এক্ষুনি বেরিয়ে যা এখান থেকে।
-- তুমি কি পাগল হলে? এসব কি করছো? নিজের জীবন কেনো নিতে চাচ্ছো? নেমে আসো। প্লিজ আপু নিচে নেমে আসো। এমন করোনা।
-- হীর তুই আমার ঘর থেকে বের হ।
হীর তাফসির দিকে এগিয়ে গেলে তাফসি বাঁধা দেয়।
-- তুই আর এক পা এগিয়ে এলে আমি ফাঁস দেবো।
কান্নায় ভেঙে পড়ে হীর।
-- এমন করো না আপু। তোমার সামনে হাত জোর করছি!
-- আমাকে বাধা দিস না। আমার কাছে এই একটাই পথ খোলা আছে। তুই চলে যা এখান থেকে। আমাকে মুক্তি দে প্লিজ। রায়ান কে ছাড়া এই জীবনের কোনো মানে নেই।
-- এসব বলো না। রায়ানের মতো একটা নিকৃষ্ট মানুষের জন্য নিজের জীবন শেষ করো না। প্লিজ নিচে নেমে এসো
-- আমার প্রথম ভালোবাসা রায়ান। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে এসেছি। আজ কিভাবে পারবো তাকে অন্য কারো হতে দেখতে! যেই জীবনে রায়ান নেই সেই জীবন রাখার কোনো মানে নেই।
-- আমি তোমার রায়ান কে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেবো। ওয়াদা করছি। নেমে আসো!
-- তুই সত্যি বলছিস?
-- বিশ্বাস করো। তোমার রায়ান তোমারই থাকবে।
অনেক কষ্টে তাফসিকে বুঝিয়ে নিচে নামিয়ে জরিয়ে ধরলো হীর।
তমা বেগম আর তুর্য দরজার বাইরে থেকে নির্বাক দর্শকের মতো তাদের কলিজার টুকরার এই অবস্থা দেখে যাচ্ছে। তাদের কারোরই সাহস হচ্ছে না তাফসির সামনে যাওয়ার। বেশকিছুক্ষণ কান্না করতে করতে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পরে তাফসি।
নিজের সন্তানকে চোখের সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা কোনো মা বাবার কাছে পৃথিবীতে নরকের থেকে কম নয়। তমা বেগমের বিপি বেড়ে তার অবস্থাও বেশ খারাপ। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না তুর্য। কিভাবে সব ঠিক করবে!
এই সবকিছুর জন্য দায়ী শুধু রায়ান। তুর্যর ইচ্ছে করছে রায়ান কে খুন করে ফেলতে। হয়তো রায়ানকে নিজের হাতে মারতে পারলে সে কিছুটা হলেও শান্তি পেতো। কিন্তু সেটাও পারছে না।
মাথা হ্যাং হয়ে গেছে তুর্যর। অনেক বেশি অশান্তি লাগছে। ব্যালকনিতে গিয়ে সিগারেট জ্বালিয়ে রকিং চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিলো। জ্বলন্ত সিগারেটে ঘনঘন টান দিচ্ছে আর চোখ বন্ধ করে নিচ্ছে। ধোয়ার কুন্ডলি রাতের আধারের সাথে মিশে অন্ধকার টা কে আরও বেশি কালো করে দিচ্ছে। হাতে থাকা সিগারেটটা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। নতুন আরেকটা জ্বালানোর জন্য প্যাকেট হাতে নিলে প্যাকেটের গায়ের ইংরেজি লেখাটা তার চোখে পরে, "Smoking causes cancer." লেখাটা চোখে পড়তেই তুর্যর দুই ঠোঁট আপনা আপনি কিঞ্চিত প্রসারিত হয়ে যায়। একদিন হীর তার মুখ থেকে সিগারেট টেনে ছুড়ে নিচে ফেলে দিয়েছিল। এই লেখাটা দেখিয়ে বলেছিলো,
"স্মোকিং কজেজ ক্যান্সার। ইট ইজ ইঞ্জুরিয়াস টু হেলথ। জানেন না বুঝি? লন্ডন থেকে পড়াশুনা করে এসেছেন অথচ এতোটুকু জানেন না? স্মোক করেন কেনো? এটা ক্ষতিকর। তাড়াতাড়ি মরে যাওয়ার ইচ্ছা করে বুঝি? আর স্মোক করবেন না।"
প্রায় ফুরিয়ে আসা সিগারেটটা নিচে ফেলে দিয়ে পায়ের সাথে পিষে ফেলে তুর্য। নতুন আরেকটা ধরানো প্রয়োজন। কিন্তু কেনো যেনো ধরাতে গিয়েও থেমে যায় সে। মনে হচ্ছে কোন এক অদৃশ্য বাঁধা তাকে আটকে দিচ্ছে।
সিগারেটের প্যাকেট টা পাশে রেখে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। ব্যালকনির রেলিং ধরে বাইরের দিকে কিছুক্ষন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঘরে চলে যায়।
ঘরের মেঝেতে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে হীর। কিছুক্ষণ আগে তাফসিকে সে ওয়াদা করেছে, রায়ানকে তার কাছে ফিরিয়ে দেবে। তাফসি কে মিথ্যে বললেও নিজেকে কিভাবে মিথ্যে বলবে সে? রায়ান কে যে আর ফেরানো সম্ভব নয় সেটা সে জানে কিন্তু তাফসিকে কি করে বোঝাবে? আজ একটু দেরি হলেই তাফসিকে হারিয়ে ফেলতো তারা। যেভাবেই হোক তাফসিকে স্বাভাবিক করতে হবে। আর এর জন্য তাফসীর মন থেকে তার আর রায়ানের মধ্যকার মিথ্যা সম্পর্কের ভয় দূর করতে হবে। তার জন্য যা করতে হয় তাই করবে সে। তাফসির জীবনের সামনে এটা নিতান্তই তুচ্ছ।
.
পরদিন রায়ান আর তার বাবা মা চৌধুরী মেনশনে এসে হাজির হন। আফজাল সাহেব বাসায় না থাকায় তমা বেগম তাদের সাথে দেখা করেন। ভোর রাতে তাফসিকে ঘুমের ঔষধ দেওয়াতে সে এখনও ঘুমিয়ে আছে। হীর তাদের সামনে আসে নি কিন্তু আড়ালে লুকিয়ে দেখছে। রায়ানের ভাঙাচোরা চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছা মতো মেরেছে তাকে। হীর খানিকটা চিন্তা করে ধারণা করলো হয়তো কালকে তুর্য তাকে মেরেছে। এমন পরিস্থিতিতেও হীর এর বেশি খুশি লাগছে এই ভেবে যে তুর্য রায়ানকে মেরেছে। নিজের খুশিকে দমিয়ে আবার কান পাতায় মনোযোগী হলো হীর। উদ্দেশ্য তাদের আসার কারণ তাকে জানতে হবে। তবে কারণ টা যে এতো ভয়াবহ হতে পারে সেই সম্পর্কে হীর এর বিন্দুমাত্র আন্দাজ ছিল না। রায়ান আর তার বাবা মা হীর আর রায়ানের বিয়ের কথা বলতে এখানে এসেছেন।
রায়ানদের বিয়ের প্রস্তাবে তমা বেগমেরমাথা চক্কর দিয়ে উঠে। হয়তো এটাই বাকি ছিল। তমা বেগম এমনিতেও হীর কে পছন্দ করে না। এখন তো কোটি টাকার বিনিময়েও বিশ্বাস করবে না। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাফসির কি হবে! তাফসি যদি বিয়ের কথা জানতে পারে তাহলে?
আফজাল সাহেবের অনুপস্থিতিতে তমা বেগম তাদের কিছুই বলে না।
-- তুর্যর বাবা কিছু কাজে ঢাকার বাইরে গিয়েছে। আমি এখন কিছুই বলতে পারবো না। আপনারা অপেক্ষা করুন কিছুদিন।
রায়ান তার বাবার কানে কানে কিছু বললে রায়ানের বাবা আবার বলতে শুরু করেন,
-- আফজাল আসার পর বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবে। এতে তো কোনো সন্দেহ নেই যে রায়ান আর হীর একে অপরকে ভালোবাসে। তাই শুভ কাজে দেরি করাটা ঠিক না। আর এখানে কারো অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। বিয়ে টা অবশ্যই হবে।
তমা বেগম বেশ হতাশ হয়ে উত্তর দিলেন,
-- হয়ে গেলেই বোধহয় ভালো। সব সমস্যার মূল ওই মেয়েটাই। ওই মেয়ের জন্য আমার মেয়ে আজ...
কাল রাতের কথা টা বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না তমা বেগম।
রায়ান তমা বেগমের কথাকে তোয়াক্কা না করে একটা বিজয় হাসি হেসে সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।

বারবার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠছে হীর এর। কিছুই ভেবে কুল পাচ্ছে না সে। কি করলে সব ঠিক করতে পারবে সে! তার কি তুর্যর আইডিয়া টা মেনে নেওয়া উচিত? তার আর তুর্যর বিয়ে হলে কি সব ঠিক হয়ে যাবে? অন্তত তাফসির ভুল ধারণা ভাঙবে এই বিয়ের মাধ্যমে। কিন্তু তবুও রায়ান তো ভালো হবে না। সে তাফসি কে কষ্ট দেবেই! এসব চিন্তা করতে করতে আবার হীরের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে। এমন মাথা ব্যথা নিয়ে মানুষ বাঁচে কি করে!